Advertisement
E-Paper

বাজেটে ঘোষিত চার শতাংশ ডিএ-র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে জটিলতা, নির্বাচন কমিশনের সিইও-কে হস্তক্ষেপের আর্জি ভোটকর্মী সংগঠনের

‘ভোটকর্মী অ্যান্ড বিএলও ঐক্য মঞ্চ’-র সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল সিইও মনোজকুমার অগ্রবালের উদ্দেশে ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি বার্তা পাঠান। সেই বার্তায় ডিএ জটিলতা কাটানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:০০
Complications Arise Over Implementation of 4% DA Announced in Budget; Election Staff Association Appeals to CEO of Election Commission for Intervention

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) কার্যকর করা নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর কাছে সরাসরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে একটি ভোটকর্মীদের সংগঠন।

‘ভোটকর্মী অ্যান্ড বিএলও ঐক্য মঞ্চ’-র এক প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে। সেখানেই নিজেদের ভোট সংক্রান্ত বিষয়ে দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ডিএ-র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে জটিলতা সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও নিজেদের মতামত জানিয়ে এ বিষয়ে কমিশনের হস্তক্ষেপের দাবি করেন।

পরে ‘ভোটকর্মী অ্যান্ড বিএলও ঐক্য মঞ্চ’-র সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল সিইও মনোজকুমার অগ্রবালের উদ্দেশে করে ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি বার্তা পাঠান। সেই বার্তায় তিনি লিখেছেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাজেটের দিন রাজ্য সরকার ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। অভিযোগ, নির্বাচন চলাকালীন নির্বাচন কমিশন এই ডিএ সংক্রান্ত আদেশ জারির অনুমতি দিচ্ছে না বলেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। বার্তায় আরও দাবি করা হয়, এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার উপর দোষ চাপানো হচ্ছে এবং তা নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে চাপানউতর শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

Advertisement

সংগঠনের পক্ষ থেকে সিইও-র কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তিনি যেন ব্যক্তিগত ভাবে উদ্যোগী হয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি আদায় করেন। কারণ, এই ডিএ বৃদ্ধির সঙ্গে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের আর্থিক স্বার্থ জড়িত। ফলে বিষয়টি দীর্ঘসূত্রিতার কারণে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, নির্বাচনকালীন সময়ে ‘মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট’ (এমসিসি) বলবত থাকায় নতুন কোনও আর্থিক সুবিধা বা ঘোষণা কার্যকর করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি প্রয়োজন হয় বলেই জানাচ্ছে নবান্নের একটি সূত্র। সেই কারণে ডিএ বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি আটকে থাকতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বা রাজ্য সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে এই ডিএ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও কিছু দিন বজায় থাকবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিলেন। জানানো হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে এবং মে মাসের বেতনের সঙ্গে কর্মীরা বাড়তি অর্থ পাবেন। সাধারণত বাজেট ঘোষণার পর দ্রুতই এই ধরনের আর্থিক সিদ্ধান্তের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। তাই এপ্রিলের আগেই সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ হবে বলে আশা করেছিলেন কর্মচারীরা। কিন্তু তা না হওয়ায় নবান্নের অন্দরে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গেলে বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি প্রয়োজন। সেই কারণেই রাজ্যের তরফে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। পরে সেই চিঠি দিল্লিতে কমিশনের কেন্দ্রীয় দফতরে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। সেখান থেকে অনুমতি পেলেই এ বিষয়ে সবুজসঙ্কেত দেওয়া হবে নবান্নকে।

Dearness Allowances Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy