বিপর্যয়ের পরে শুধু উপরে উপরে কারণ না খুঁজে নিচু তলার নেতা-কর্মীদের মতামত নেওয়া এবং পার্টি লাইন ঠিক করার দাবি উঠল কংগ্রেসের অন্দরে। বিধানসভা ভোটের ফলাফলের পর্যালোচনার জন্য গঠিত এআইসিসি-র কমিটির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে এমন দাবিতেই সরব হলেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের একাংশ। তাঁদের মত, কেবল ভোটের সময় এলেই কংগ্রেস কারও না কারও সঙ্গে জোট করবে এবং নেতা ও তাঁদের অনুগামীদের টিকিট পাইয়ে দেওয়া হবে— এই রেওয়াজ ভাঙতে হবে।
মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক চবনের নেতৃত্বাধীন এআইসিসি-র পর্যালোচনা কমিটি মঙ্গলবার আলাদা করে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছিল প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ স্তরের নেতাদের সঙ্গে। দ্বিতীয় দিনে অনলাইন আলোচনা ছিল প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও পদাধিকারীদের সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এ বার ভোটে প্রার্থী ছিলেন, বাকিরা ভোটে লড়েননি। সেই আলোচনাতেই বুধবার নানা মত উঠে এসেছে প্রদেশ স্তর থেকে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে দু’বার দুই জেলায় দু’টি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী ছিলেন, এমন এক প্রদেশ কংগ্রেস নেতা এ দিনের বৈঠকে ক্ষোভের সুরেই বলেছেন, সিপিএম তাদের সাংগঠনিক কাঠামো মেনে ভোটের বিপর্যয়ের পরে রাজ্য ও জেলা কমিটিতে আলোচনা করছে, নিচু তলা থেকে মতামত নিচ্ছে। কিন্তু এআইসিসি-র সঙ্গে আলোচনার আগে প্রদেশ কংগ্রেস স্তরে কোনও বৈঠকই হয়নি! রাহুল গাঁধী যদি প্রদেশ নেতাদের ডেকে মত নিতে পারেন, প্রদেশ নেতৃত্ব কেন জেলা বা ব্লক স্তরের কথা শুনবেন না?
কংগ্রেস সূত্রের খবর, প্রদেশ সভাপতি ও প্রাক্তন বিরোধী দলনেতার সমন্বয় না রেখে যে যার নিজের মতো চলা, আইএসএফের সঙ্গে জোট-জটিলতা, বাম ও কংগ্রেস জোট করার পরেও নিয়মিত কর্মসূচি না থাকা— এ সব প্রসঙ্গই আলোচনায় এসেছিল। একাধিক প্রদেশ কংগ্রেস নেতাই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, রাজ্যে বিজেপি-বিরোধী ভোট তৃণমূলের বাক্সে গিয়েছে। আবার তৃণমূলের যাঁরা বিরোধিতা করতে চেয়েছেন, তাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। এই দু’তরফের ভোটই ‘স্থায়ী’ নয় ধরে কংগ্রেসকে লড়াই চালাতে হবে। এআইসিসি-র নেতারা তাঁদের বলেছেন, ভার্চুয়াল আলোচনা ও লিখিত মতামত খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হবে।