মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বিডিও অফিসে তাণ্ডব এবং এসআইআরের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল বিধায়ক বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর।
নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য মনিরুলের নামে থানায় অভিযোগ জানানো হয়নি। বদলে শুক্রবার প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। ঘটনাক্রমে শনিবার জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে মনিরুলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পদ্মশিবিরের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি হয়ে মনিরুল কেবল সরকারি কাজে বাধাদানই করেননি, তিনি গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত ও ব্যাহত করার চেষ্টা করেছেন। অন্য দিকে, শুক্রবার এসআইআরের কাজের দায়িত্বে থাকা ইআরও-কে পাঠানো চিঠিতে মনিরুল জানান, নির্বাচন কমিশন, তাদের আধিকারিক এবং ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। তিনি সর্বদা সংবিধান মেনে চলেন এবং আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন। তবে কোথাও হয়তো শব্দচয়ন ভুল হয়েছিল। গত ১৪ জানুয়ারি ফরাক্কার বিডিও অফিসের সামনে যা বলেছিলেন, তা নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা নষ্টের উদ্দেশ্যে বলেননি। ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করাও তাঁর উদ্দেশ্য নয়।
তাঁর নামে এফআইআর দায়ের হয়েছে শুনে ফরাক্কার বিধায়কের উক্তি, “মানুষের জন্য লড়াই করতে গিয়ে যদি জেলে যেতে হয়, তবে যাব। বিজেপি আর নির্বাচন কমিশন এখন আর আলাদা কিছু নয়। কমিশন এখন বিজেপির মুখপাত্র হিসাবেই কাজ করছে।”
বিধায়কের এই মন্তব্য কেন্দ্র-রাজ্য প্রশাসনিক সংঘাতকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। কেন কমিশনের নির্দেশ সত্ত্বেও প্রশাসন মনিরুলের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘প্রশাসনিক নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন পুলিশ ব্যবস্থা নিল না, সেটাই তো বড় প্রশ্ন। একটা রাজনৈতিক দলকে কেন এফআইআর করতে হচ্ছে? এটাই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বর্তমান অবস্থার উদ্বেগের ছবি।” ভরতপুরের বিধায়ক তথা জনগণ উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের আবার অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসন, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন যৌথ ভাবে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তৃণমূলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ওরা সংখ্যালঘু আবেগ নিয়ে দ্বিচারিতা করছে। আগামী নির্বাচনে এর ফল টের পাবে।”
আরও পড়ুন:
মনিরুলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের নিয়ে বিজেপির সাংগঠনিক জেলা চেয়ারম্যান সুবলচন্দ্র ঘোষের দাবি, “একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে স্বশাসিত সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি অফিসে ঢুকে ভাঙচুর বা খুনের হুমকি দেওয়া কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে ওঁর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কমিশন, নাম দেখা যাবে কমিশনেরই ওয়েবসাইটে
-
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি
-
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা