E-Paper

অস্থায়ী চাকরিতে বঞ্চনার কথা নিয়ে ভোটের আগে সভায় বৃত্তিমূলক শিক্ষকেরা

রাজ্য জুড়ে ১৬২০টি স্কুলে চলে এই বৃত্তিমূলক শিক্ষা। অটোমোবাইল, হেল্‌থকেয়ার, আইটি, টুরিজম, বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেসের মতো বৃত্তিমূলক বিভিন্ন বিষয়গুলি মাধ্যমিক স্তরে ঐচ্ছিক ইলেকটিভ বিষয় হিসাবে এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কমপালসারি ইলেকটিভ বিষয় হিসাবে রয়েছে।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ০৭:৪৭

—প্রতীকী চিত্র।

বেতন বাড়েনি গত ১৩ বছর। গত মাসে আবার বেতনও মেলেনি। স্থায়ীকরণ হয়নি তাঁদের। এত দিন পরেও নেই নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো। তাই এ বার বাছাই করা বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে পথসভা করে তাঁদের প্রতি বঞ্চনার কথা তুলে ধরছেন চুক্তিভিত্তিক বৃত্তিমূলক এনএসকিউএফ (ন্যাশনাল স্কিল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক) শিক্ষকেরা।

রাজ্য জুড়ে ১৬২০টি স্কুলে চলে এই বৃত্তিমূলক শিক্ষা। অটোমোবাইল, হেল্‌থকেয়ার, আইটি, টুরিজম, বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেসের মতো বৃত্তিমূলক বিভিন্ন বিষয়গুলি মাধ্যমিক স্তরে ঐচ্ছিক ইলেকটিভ বিষয় হিসাবে এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কমপালসারি ইলেকটিভ বিষয় হিসাবে রয়েছে। ৩ হাজারের মতো শিক্ষক এই বিষয়গুলি পড়ানোর জন্য বিভিন্ন স্কুলে রয়েছেন। বৃত্তিমূলক শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই নজরে থাকা বেশ কিছু কেন্দ্র যেমন ভবানীপুর, নন্দীগ্রাম-সহ আরও কিছু জায়গায় বঞ্চনার কথা বলতে শুরু করেছেন তাঁরা।

বৃত্তিমূলক শিক্ষা রয়েছে কারিগরি শিক্ষার অধীনে। বৃত্তিমূলক শিক্ষকদের প্রশ্ন, জাতীয় শিক্ষানীতিতে যেখানে বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেখানে তাঁরা গত ১৩ বছর ধরে এত অবহেলিত কেন? এনএসকিউএফ-এর রাজ্য সভাপতি নিরুপম কোলের অভিযোগ, ‘‘আমরা বহু বছর ধরে দাবি করে এসেছি যে, আমাদের শিক্ষা দফতরের অধীনে আনা হোক। কিন্তু এখনও কারিগরি শিক্ষার অধীনে রেখে বৃত্তিমূলক শিক্ষক নিয়োগকে এজেন্সির মাধ্যমে করা হচ্ছে। এর পিছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় বিভিন্ন জনসভা করে এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগের ফলে আমাদের দুরবস্থা কী, সেটা তুলে ধরব। আমরা সাধারণ মানুষকে বোঝাব, বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং শিক্ষকদের পঙ্গু করে রাখলে আখেরে ক্ষতি হবে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার।’’

এক বৃত্তিমূলক শিক্ষিকা শ্রেয়া চৌধুরী বলেন, ‘‘বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেস, টুরিজ়ম, হেল্‌থকেয়ারের বিষয়গুলি পড়ে বহু পড়ুয়া স্বনির্ভর হতে পারে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে চাকরি নয়, পড়াশোনা করে স্বনির্ভর হতে জোর দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কাছে বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেস পড়ে মেক-আপ শিল্পীর কাজ করে মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বা তার থেকেও বেশি উপার্জন করছেন অনেকে। টুরিজ়ম পড়ে নিজস্ব ভ্রমণ সংস্থা খুলেছেন কেউ কেউ। অথচবৃত্তিমূলক শিক্ষাই সব থেকে বেশি অবহেলিত। শিক্ষকদের চার মাসের বেতন হয়নি। বেতন না হওয়ায় এ বার ইদের উৎসবও ম্লান হয়েছে বহু শিক্ষকের।’’

ওই শিক্ষকদের প্রশ্ন, অন্য রাজ্যগুলিতে যখন বৃত্তিমূলক শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ হচ্ছে, তাঁদের স্থায়ীকরণ হতে বাধা কোথায়? বৃত্তিমূলক শিক্ষার পরিকাঠামো ঠিক থাকলে রাজ্যের মানুষকে ভিন্‌ রাজ্যে কাজের খোঁজে যেতে হত না বলেও দাবি তাঁদের। ফলে বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অবহেলিত রেখে কর্মসংস্থানের সুযোগ ধ্বংস করা হচ্ছে বলেও তাঁদের অভিযোগ। শ্রেয়া বলেন, “বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে তাঁদের কী পরিকল্পনা, সেই প্রশ্নও আমরা বিরোধী দলের মিটিং-মিছিলে করব। কোনও দলের থেকে সদুত্তর না পেলে আমরা ভোট বয়কটের দিকেও যেতে পারি।”

ভোটের আগে বৃত্তিমূলক শিক্ষার পরিস্থিতি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বিজেপি। বিজেপি শিক্ষা সেলের সভাপতি পিন্টু পারুই বলেন, “কেন্দ্র বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য যথাযথ বরাদ্দ দিলেও রাজ্য নিজের অংশের টাকা খরচ করছে না। কেন্দ্রের অংশও খরচ না করে অন্য খাতে খরচ করছে। সরকার বদলালে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে।” তৃণমূলের শিক্ষা সেলের রাজ্য সভাপতি মইদুল ইসলাম বলেন, “বৃত্তিমূলক শিক্ষার পরিকাঠামো থেকে শুরু করে শিক্ষকদের নানা সমস্যা আছে। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থও হয়েছি। আশা করি, আমাদের দলের সরকার ফের গঠন হলে মন্ত্রী বদল করে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal Assembly Election

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy