ভোটে দলের বিপর্যয়ের পরে শুক্রবার কালীঘাটে পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, দলের পরাজিত প্রার্থীরা গণনাকেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে মেল করবেন। পাশাপাশি, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে প্রশ্ন করা হবে ভোটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পর পরই সুব্রত গুপ্ত ও মনোজ অগ্রবাল কী করে রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেন তা নিয়ে। নেতৃত্বকে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি, ভোট পরবর্তী হিংসার তথ্য সংগ্রহ করতে জেলায় জেলায় তথ্য অনুসন্ধানকারী দল পাঠানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে শুক্রবার।
বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন মোট পাঁচ জন পরাজিত প্রার্থী। অদিতি মুন্সী, রাজ চক্রবর্তী, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাংশু ভট্টাচার্য ও ফিরদৌসি বেগম। বিপর্যয়ের সময়ে দলের পাশে থাকা প্রসঙ্গে মমতার বার্তা, “যাঁরা দল ছাড়তে চান, ছাড়তে পারেন। বাকি যাঁরা পড়ে থাকবেন তাঁরাই আসল সোনা। তাঁদের নিয়েই সংগঠন শক্তিশালী হবে।” শুক্রবারের বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, মেল মারফত কমিশনের কাছে দাবি জানানো হবে, গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর জন্য।
তৃণমূল সূত্রে খবর, মমতা দাবি করেছেন, দলীয় প্রার্থীদের জোর করে হারানো হয়েছে। পরাজিতদের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ, নিচুতলার কর্মীরাই দলের সম্পদ। তাঁদের সঙ্গে প্রতি নিয়ত যোগাযোগ রাখতে হবে। সংগঠনকে মজবুত রাখতে হবে। জানা গিয়েছে, বৈঠকে মমতা আরও দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কী ঘটেছে তা আগামী দিনে প্রকাশ পাবে।
দলীয় সূত্রে খবর, শনিবার থেকেই জেলায় জেলায় তৃণমূলের তথ্য অনুসন্ধানকারী দল যাবে ভোট পরবর্তী হিংসা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যেতে পারে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। জানা গিয়েছে, এর পরে মমতা বৈঠকে বসবেন বিভিন্ন জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে।