E-Paper

এ বার প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাজ্যের মন্ত্রীদের

যতটুকু জানা গিয়েছে, দলীয় সূত্রে, তাতে ওই প্রশিক্ষণে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর সবিস্তার বিবরণ দেওয়া হবে মন্ত্রীদের।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ০৯:১৩
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল চিত্র।

প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ নেবেন রাজ্যের নতুন প্রশাসক তথা মন্ত্রীরা। সেই কেন্দ্রেই, যেখানে নতুন আইএএস এবং ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকেরা চাকরি জীবনের শুরুতে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনার বদল না ঘটলে আজ, শনিবার সেই নেতাজি সুভাষ প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই প্রশিক্ষণ নিতে যাবেন মন্ত্রীরা। সেখানে থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রীরও।

যতটুকু জানা গিয়েছে, দলীয় সূত্রে, তাতে ওই প্রশিক্ষণে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর সবিস্তার বিবরণ দেওয়া হবে মন্ত্রীদের। প্রাইভেট সেক্রেটারির কী ভূমিকা, দফতরের কাঠামো অনুযায়ী একেক জন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক কী ধরনের কাজ করে থাকেন, সচিবস্তরের আধিকারিকদের ভূমিকা এবং এক্তিয়ার কতদূর ইত্যাদি সব থাকতে পারে সেই প্রশিক্ষণে। মন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনিক কী ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন, সরকারি নোটশিট এবং তার গুরুত্ব-ব‍্যবহার, মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে কী ভাবে তা তৈরি এবং এগিয়ে যায় পরবর্তী ধাপ পর্যন্ত, তা-ও থাকতে পারে প্রশিক্ষণের আওতায়। সবচেয়ে বেশি জোর থাকতে পারে বাজেট ব‍্যবস্থাপনার উপরে। সাধারণত, একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক পর্যন্ত খরচের এক্তিয়ার থাকে দফতরগুলির হাতেই। তার চেয়ে বেশি খরচের ক্ষেত্রে অর্থ দফতরের অনুমোদন দরকার হয়। কী ভাবে সেই বিধি মানতে হবে, তা জানানো হতে পারে মন্ত্রীদের। একই সঙ্গে, বাজেট প্রস্তুতির ধরন, তাতে আধিকারিক এবং মন্ত্রীদের ভূমিকার ব‍্যাখ‍্যাও হতে পারে সমান্তরালে। এখনও পর্যন্ত স্থির রয়েছে, প্রবীণ-প্রাক্তন আমলাদের একাংশ থাকতে পারেন প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে। জাতীয় স্তরে বিশেষজ্ঞদেরও আনা হতে পারে গোটা বিষয়ের ব‍্যাখ‍্যা দিতে।

মন্ত্রী মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, এখনকার মন্ত্রিসভার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি। কারণ, তিনি অতীতে দীর্ঘ সময় সরকারি নানা দায়িত্ব এবং মন্ত্রিত্ব সামলেছেন। তবুও তাঁর থাকার কথা পরিষদীয় দলনেতা হিসাবে। তাপস রায়ের এই অভিজ্ঞতা রয়েছে। কারণ, তিনিও অতীতে মন্ত্রী ছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে নবনিযুক্ত বাকি মন্ত্রীদের বেশির ভাগের হাতে-কলমে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নেই। এর আগে মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশে নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের এমন প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই সূত্রে এমন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।

অভিজ্ঞদের বক্তব্য, তৃণমূল আমলে অনেক দফতরের কাজকর্মে বিতর্ক এবং গরমিল দেখা দিয়েছিল। শিক্ষা-পুর নিয়োগে দুর্নীতি-সহ একাধিক অনিয়মে আধিকারিকদের একাংশের যোগও মিলেছে। সেই দিক থেকে নয়া মন্ত্রীদের চোখ-কান খোলা থাকাও জরুরি। আইন-বিধি, প্রশাসনিক কাজের খুঁটিনাটি এবং এক্তিয়ারের বিষয়গুলি তাই নখদর্পণে থাকা প্রয়োজন। এখন কেন্দ্রের সব প্রকল্পের সুবিধা রাজ্য নেবে। কেন্দ্রীয় নীতিও বাস্তবায়িত করার দায়িত্ব নতুন রাজ্য সরকারের উপর রয়েছে। ফলে সেই সেতুবন্ধনে প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ বাড়তি সুবিধা দেবে নতুন মন্ত্রীদের।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Suvendu Adhikari

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy