Advertisement
E-Paper

ভাইরাসের ভয়ে কাঁটা বঙ্গের জেল

আর্থার রোডের মতোই বাংলার বেশির ভাগ জেলে ধারণক্ষমতার থেকে অনেক বেশি বন্দি আছেন। করোনা-আবহে এ রাজ্যের দণ্ডিত ও বিচারাধীন মিলিয়ে কমবেশি তিন হাজার বন্দি ছাড়া পেয়েছেন ঠিকই।

প্রদীপ্তকান্তি ঘোষ

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২০ ০৭:০১
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলের শতাধিক বন্দি ও কর্মী করোনায় আক্রান্ত। তাতে আশঙ্কার মেঘ ঘনাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের জেলকর্মী, আধিকারিক এবং বন্দিদের মধ্যেও। তবে বাংলার কারাকর্তাদের আশ্বাস, করোনা মোকাবিলায় সব রকম প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

আর্থার রোডের মতোই বাংলার বেশির ভাগ জেলে ধারণক্ষমতার থেকে অনেক বেশি বন্দি আছেন। করোনা-আবহে এ রাজ্যের দণ্ডিত ও বিচারাধীন মিলিয়ে কমবেশি তিন হাজার বন্দি ছাড়া পেয়েছেন ঠিকই। কিন্তু নানা কারণে গ্রেফতারও চলছে। ফলে কোনও কোনও জেলে আবাসিকের সংখ্যায় খুব একটা হেরফের হয়নি। আবার কোথাও সংখ্যার অনেকটাই তারতম্য ঘটেছে।

নতুন আসা বন্দিদের ক্ষেত্রেই বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার জন্য সব জেলের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কারা দফতর। বলা হয়েছে, একেবারে আলাদা রাখতে হবে নবাগতদের। গেটে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরে নতুন বন্দিকে আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে। সেখানে ১৪ দিন থাকার পরে তাঁদের অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। কোথাও ১৪ দিনকে দু’ভাগে ভাগ করা হচ্ছে। প্রথম সাত দিন একেবারে নতুনেরা একসঙ্গে থাকছেন। যাঁদের পৃথক থাকার মেয়াদ সাত দিনের বেশি হয়ে গিয়েছে, তাঁদের রাখা হচ্ছে একসঙ্গে। তবে কোনও ভাবেই কয়েক মাস বা দীর্ঘদিন জেলে থাকা বন্দিদের সঙ্গে নবাগতদের রাখা হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কারা আধিকারিকদের অনেকে বলছেন, ‘‘নতুন আসা প্রত্যেককে আলাদা করে ১৪ দিন রাখা সম্ভব নয়। এত জায়গা কোথায়? আর এক দিনে তো এক জন করে আসছেন না।’’ তবে কোনও বন্দির জ্বর ও সর্দিকাশি হলে জেল হাসপাতালে তাঁকে পৃথক ভাবে রাখা হচ্ছে। অন্য কারণে জেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের সঙ্গে তাঁদের রাখা হচ্ছে না। জেল ফটকে বন্দিদের পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মী-আধিকারিকদের জন্য বর্মবস্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান কারাকর্তারা। কোনও বন্দিকে জেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়েও কর্মীরা বর্মবস্ত্র ব্যবহার করছেন। কারা দফতর সূত্রের খবর, ‘ফেস শিল্ড’ পৌঁছে যাবে কয়েক দিনের মধ্যে। গ্লাভস, মাস্কের জোগানও রয়েছে জেলে। জেলগুলি জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা হয়েছে।

কোনও কোনও জেলে আদালতের উদ্যোগেই বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি ত্বরান্বিত হয়েছে। ফলে বন্দিরা দ্রুত ছাড়া পাচ্ছেন। কিন্তু কোথাও কোথাও ‘সক্রিয়তায় ঘাটতি’ দেখা যাচ্ছে বলে বন্দিদের পরিজনের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট শিবিরের একাংশ জানাচ্ছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গড়া উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি বন্দি-মুক্তির জন্য পদক্ষেপ করলেও পুলিশের তরফে গড়িমসি করা হচ্ছে। ফলে বন্দিদের মুক্তি পেতে অনেকটাই দেরি হচ্ছে। ওই কমিটি দণ্ডিতদের প্যারোলে এবং বিচারাধীন বন্দিদের অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তির নির্দেশে দিয়েছে। দু’টি ক্ষেত্রেই মুক্তির মেয়াদ তিন মাসের।

মুক্তি প্রক্রিয়া চললেও কারাগারে জায়গার তুলনায় বন্দির সংখ্যা অনেক বেশি। এটাই চিন্তায় রেখেছে কারাকর্মী ও আধিকারিকদের। তাঁরা বলছেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত এ রাজ্যের সব জেলে পরিস্থিতি ঠিকই আছে। কিন্তু একটা ঘটনা ঘটে গেলে কী ভাবে সামাল দেওয়া যাবে, জানি না।’’

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy