জঙ্গলমহল তখন রক্তাক্ত। মাওবাদী হানায় নিহত সালকু সরেনের নিথর দেহ প্লাস্টিকে মুড়ে পড়েছিল দিনের পর দিন। সৎকার করার সাহসও দেখাতে পারছিলেন না গ্রামবাসীরা। সে দিন এখন অতীত। জঙ্গলমহলে দখল নিয়েছে তৃণমূল। নিহত সালকুর মা ছিতামনি সরেন তবু রং বদলাননি! ছেলে হারানোর স্ম়তি বুকে নিয়েই সিপিএমের ব্রিগেডে আসছেন ছিতামনি।
গলসির সিপিএম কর্মী এক তরুণ দম্পতি বিয়ের পরে মধুচন্দ্রিমা মুলতবি রেখেছেন। বিয়ের পরে একত্রে তাঁরা প্রথম আসছেন ব্রিগেডেই। তাঁরাই নাম দিয়েছেন ‘হানিমুন ব্রিগেড’!
নিহত কর্মীর বৃদ্ধা মা থেকে উৎসাহী নবদম্পতি— আবেগের অস্ত্রেই এ বার ব্রিগেড ভরতে চাইছে বামেরা। এক দিকে তৃণমূলের সদ্য হয়ে যাওয়া তারকাখরিত ব্রিগেড এবং অন্য দিকে বিজেপির একের পর এক ‘হেভিওয়েট’ মন্ত্রী-নেতাদের জেলায় জেলায় সমাবেশ প্রচারের যাবতীয় আলো শুষে নিচ্ছে। বামেরা এ বার তাই ভরসা রেখেছে সম্পূর্ণ ভাবে নিজেদের সংগঠন এবং সামাজিক মাধ্যমের সংযোগের উপরে।
‘মেহনতী মানুষ সরিবার ব্রিগেডে আসুন’, এই আমন্ত্রণ জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমেই ছাড়া হয়েছে আমন্ত্রণপত্র। ‘বন্ধু’ যাতে ‘পথের সাথী’কে চিনে নেন, তার জন্য ছাড়া হয়েছে পোস্টকার্ডও। সামাজিক মাধ্যমে এই অভিনব উদ্যোগের পাশাপাশিই এলাকায় এলাকায় হাটে-বাজারে তোলা হয়েছে চাঁদা। দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি জেলায় সংগ্রহ করা হয়েছে চাল, ডাল, আনাজ। দূরের জেলার মানুষ শুক্রবার রাত থেকে শহরে আসতে শুরু করছেন। তাঁদের খাওয়া-দাওয়া ব্যবস্থা হয়েছে গণসংগ্রহ থেকেই।
ব্রিগেডের মাঠে শনিবার গিয়ে চোখে পড়েছে, পাত পেড়ে খিচুড়ি খাচ্ছেন উত্তরবঙ্গ থেকে আসা কর্মী-সমর্থকেরা। মানিকতলা আর খিদিরপুরে সামিয়ানা খাটিয়ে তৈরি করা হয়েছে দু’টো রান্নাঘর, ব্রিগেডে খাবার সরবরাহের জন্য। আবার দলের কলকাতা জেলা কমিটিকে রবিবারের জন্য ১০-১২ হাজা রুটির বন্দোবস্ত রাখতে বলেছেন সিপিএম নেতারা।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলছেন, ‘‘বাধা-বিপত্তি, প্ররোচনা উপেক্ষা করে মানুষই ইতিহাস গড়বেন। তাঁরাই দেওয়াল লিখেছেন, হাতে লেখা পোস্টার করেছেন। মুড়ি বেঁধে তাঁরা রওনা হয়েছেন সমাবেশের জন্য।’’
বিজেপি ও তৃণমূলের ব্রিগেড-সহ বড় সমাবেশে দলের তরফেই বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের জন্য ‘ফিড’ সরবরাহের ব্যবস্থা থাকে আজকাল। মাঠে ক্যামেরা নিয়ে যেমন খুশি ছবি দেখানোর সুযোগ নেই। বাম ব্রিগেডে তেমন কিছু নেই। যে যার মতো সম্প্রচার করবে। তবে ‘মোদী-দিদির বাজারে’ কে কী ছবি দেখাবে, তার ভরসায় না রেখে এ বার দলীয় মুখপত্রের অ্যাপ মারফত সিপিএমও ব্রিগেড সমাবেশের সরাসরি ছবি দেখাবে। যার ব্যবস্থাপনায় আছে সিপিএমের সোশ্যাল মিডিয়া টিম।
সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির কথায়, ‘‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এখানে কেউ আসবে না! এটা সব অর্থেই পিপল্স ব্রিগেড।’’