ভাগাভাগির হিসেব এখনও চূড়ান্ত নয়। তবে দলের নিচু তলার মনোভাবকে ‘মান্যতা’ দিয়ে এ বার বিধানসভা নির্বাচনে গত দু’বারের চেয়ে বেশি আসনে লড়তে চাইছে সিপিএম। বামফ্রন্টের শরিক এবং ফ্রন্টের বাইরের বাম দলকে কত আসন দেওয়া হবে, তা ঠিক করে নিয়েই ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) সঙ্গে রফা চূড়ান্ত করতে চায় আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
রাজ্যে ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে বামফ্রন্টের প্রধান দল হিসেবে ২১০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল সিপিএম। সেই ১৫ বছরের আগের ছবি ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। তার পরে ২০১৬ এবং ২০২১, দুই বিধানসভা নির্বাচনেই কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের আসন সমঝোতা ছিল। ওই দু’বার যথাক্রমে ১৪৮ ও ১৩৮টি আসনে লড়েছিল সিপিএম। এ বার কংগ্রেস একা লড়ার কথা জানিয়ে দেওয়ায় বাড়তি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ এসেছে বামেদের সামনে। সিপিএম সূত্রের খবর, এলাকা ধরে ‘অগ্রাধিকার’ চিহ্নিত করে দলের জেলা নেতৃত্ব তাঁদের কাঙ্ক্ষিত আসনের তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন রাজ্য দফতরে। অধিকাংশ জেলা ও তার নীচের স্তরের নেতৃত্বের মত, ভবিষ্যতের কথা ভেবে বেশিসংখ্যক আসনে নিজেরা লড়ে সংগঠনকে ঝালিয়ে নিক সিপিএম। তার প্রেক্ষিতে দলের রাজ্য নেতৃত্বও ঠিক করেছেন, ২০১১-র চেয়ে কম কিন্তু গত দুই বিধানসভা ভোটের চেয়ে বেশিসংখ্যক কেন্দ্রে এ বার সিপিএমের প্রার্থী থাকবে। অন্য দলগুলির সঙ্গে আলোচনা সেরে দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর অনুমোদন নিয়ে আগামী ১৯-২০ ফেব্রুয়ারি রাজ্য কমিটির বৈঠকে সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির কাছে তালিকা পেশ করতে চান সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সব ঠিক থাকলে, এসআইআর শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়ে নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার আগেই বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরিকল্পনা নিচ্ছেন বাম নেতৃত্ব।
তবে কংগ্রেস সরে যাওয়ায় উভয় সঙ্কটও তৈরি হয়েছে বামফ্রন্টের অন্দরে! বাম শরিকদের প্রশ্ন, কংগ্রেসকে যখন আসন ছাড়তে হচ্ছে না, তা হলে তারা কেন ২০১১-র আগের মতো না-হলেও সাম্প্রতিক কালের চেয়ে বেশি আসন পাবে না? আর সিপিএমের বড় অংশের পাল্টা যুক্তি, বহু জায়গাতেই শরিক দলের পৃথক সংগঠন কার্যত নেই। সেই রকম আসনে শরিক দলের প্রার্থী থাকলে সিপিএমের নিচু তলার সংগঠনে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। তার চেয়ে সিপিএমের নিজের প্রতীকেই বাড়তি আসনে লড়া যুক্তিযুক্ত। সূত্রের খবর, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে রবিবারও ফ ব-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মতান্তর বেধেছিল এই প্রশ্নে। কোচবিহার, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর বা দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জেলার কিছু আসনে সাম্প্রতিক কালে যেখানে শরিক দলের প্রার্থী ছিল, সেখানে এ বার নিজেরা লড়তে চায় সিপিএম। আবার আইএসএফ এবং সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের মতো দলের জন্য কিছু আসনের বন্দোবস্তও তাদের করতে হবে।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সেলিমের কথায়, ‘‘বামফ্রন্টের মধ্যে ঘর গুছিয়ে অন্য বাম দলের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত করা হবে। তার পরে বাইরের অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতা পাকা করা হবে। সকলকেই সকলের কথা বুঝতে হবে। প্রথমে বামফ্রন্টে আসনের ভাগ ঠিক না-হলে আইএসএফের দাবি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত করা যায় না।’’ সূত্রের খবর, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর পাশাপাশি শরিকদের সঙ্গে কথা চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্রীদীপ ভট্টাচার্য ও সুজন চক্রবর্তীকে।
সূত্রের খবর, আইএসএফের সঙ্গে সিপিএমের দফায় দফায় আলোচনার প্রেক্ষিতে তিন বার সংশোধিত হয়েছে আসন-দাবির তালিকা। আইএসএফের রাজ্য কমিটির বৈঠকে এ দিনই এই পরিস্থিতি আলোচিত হয়েছে। আইএসএফের চেয়ারম্যান ও বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকীর বক্তব্য, ‘‘আমরা আবার চিঠি পাঠাচ্ছি সিপিএমের কাছে। এমনিতেই দেরি হয়েছে। আমাদের দলের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হোক।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)