বেনজির বিপর্যয়ের জেরে দলে নেতৃত্ব বদলের চর্চা ফের জোরালো ভাবে উঠে এল সিপিএমে। সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির সুরেই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকে জানিয়ে দিলেন, নজিরবিহীন ভরাডুবির দায় তাঁরা স্বীকার করছেন। চেয়ার আঁকড়ে থাকতেও তারা মরিয়া নন। কঠিন সময়ে পথ চলতে বরং উঠে আসুক নতুন নেতৃত্ব। আর ইয়েচুরি প্রকাশ্যেই ইঙ্গিত দিলেন, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাল রেখে সংগঠনে বদল আসবে।
কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গাঁধী বা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দলীয় বৈঠকে সরাসরি ইস্তফা দেওয়ার কথা সিপিএম নেতারা বলছেন না। তবে বিপর্যয়ের দায় স্বীকার করে পদ ছেড়ে দিতে তাঁরা যে প্রস্তত, সেই ইঙ্গিত তাঁরা দিচ্ছেন। লোকসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরে দিল্লিতে পলিটব্যুরোর প্রথম বৈঠকেই দায় স্বীকার করেছিলেন সাধারণ সম্পাদক ইয়েচুরি। আলিমুদ্দিনে মঙ্গলবার রাজ্য কমিটির বৈঠকে সূর্যবাবু একই পথে হেঁটেছেন। ইয়েচুরি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিন দিনের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আসন্ন বৈঠকে এবং তার পরেও সংগঠনের রদবদলের প্রশ্ন আলোচনা হবে। প্রশ্ন অবশ্য এ ক্ষেত্রে দু’টো। প্রথমত, ইয়েচুরি বা সূর্যবাবু সরে গেলে পরবর্তী নেতৃত্বে কারা আসবেন? আর দ্বিতীয়ত, সিপিএমে নেতৃত্বের রদবদল হয় সম্মেলন প্রক্রিয়ায়। দলের পার্টি কংগ্রেস হয়ে গিয়েছে গত বছরই। এখন মাঝপথে তা হলে কি সাংগঠনিক প্লেনামের ভাবনা আসবে?
বাংলায় পরপর নির্বাচনে বামফ্রন্টের বিপর্যয়ের পরে তাঁরা কি নেতৃত্ব বদলের কথা ভাবছেন? রাজ্য কমিটির বৈঠকের বিরতিতে এ দিন ইয়েচুরি বলেন, ‘‘রাজনীতি ছাড়া সংগঠন হয় না। আবার সংগঠন ছাড়া রাজনীতি হয় না। আমরা খোলা মনেই আলোচনা করছি। বদল হবেই। অবাক হবেন না!’’ বাংলায় এ বার বামেদের সভা-মিছিলে যত তরুণ মুখ দেখা গিয়েছে, গত ১০ বছরের মধ্যে তেমন দেখা যায়নি বলে ইয়েচুরির মত। তাঁর আরও সংযোজন, ‘‘আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশেরই গড় বয়স এখন চল্লিশের আশেপাশে। এই তরুণ অংশের মানুষের ভাবনার সঙ্গে মিলিয়ে চলতে হলে সংগঠনকে সে ভাবে সাজাতেই হবে।’’
রাজ্য কমিটির বৈঠকের জবাবি ভাষণে সূর্যবাবুও বলেছেন, বাংলায় বামেদের এ বার আসন জোটেনি। ভোট নেমে এসেছে ৭.৫%-এ। স্বাধীনতার পরে কখনও এমন হয়নি। এই বিপর্যয়ের দায় সম্পাদক হিসেবে তাঁর। রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীও দায় স্বীকার করছে। চেয়ার আঁকড়ে নেতারা কেউই থাকতে চান না। নতুন নেতৃত্ব উঠে আসুক, তাঁরা চান। ইয়েচুরিও বৈঠকে তাঁর ভাষণে বলেছেন, এ বার ভোটের ফল পক্ষে না গেলেও তরুণ যে প্রজন্ম ভোটের কাজে সামিল ছিল, তাদের সংগঠনের কাজে গুরুত্ব দেওয়ার কথা নেতাদের মাথায় রাখতে হবে। কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে নেতৃত্বের উদ্যোগের অভাবের কথা বলা ছাড়া রাজ্য কমিটির বৈঠকে কেউ অবশ্য সরাসরি নেতাদের ইস্তফা দাবি করেননি।