E-Paper

নিপা-উৎস খুঁজতে কি কবর থেকে তোলা হবে দেহ

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি অজানা জ্বর ও অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোমে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যু হয়েছিল বারাসতের হাসপাতালে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৬

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি দু’জন নার্সকে এখনও সঙ্কটমুক্ত বলছেন না চিকিৎসকেরা। তবে বছর পঁচিশের তরুণ নার্স এখন অন্যের সাহায্যে হাঁটাচলা করছেন। পাশাপাশি ভেন্টিলেশনে থাকা তরুণী নার্সের শারীরিক অবস্থার নতুন করে কোনও অবনতি হয়নি। তিনি অল্প হাত-পা নাড়ছেন ও চোখ খোলার চেষ্টা করছেন। ওই দু’জনের সংক্রমিত হওয়ার উৎসের খোঁজ করছেন বিশেষজ্ঞরা। জানা গিয়েছিল, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি অজানা জ্বর ও অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোমে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যু হয়েছিল বারাসতের ওই হাসপাতালে। তাঁর দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন ওই দুই নার্স। সে দিকে নজর থাকছে। সূত্রের খবর, সংক্রমণের উৎস খুঁজতে প্রয়োজনে মৃতের দেহ কবর থেকে তুলে নমুনা সংগ্রহের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞরা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই খবর।

সূত্রের খবর, বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ওই দুই নার্সের সংস্পর্শে আসা সকলেরই নিপা ভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তাঁদের মধ্যে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ১৩ জনকে বাড়িতে ২১ দিন নিভৃতবাসে থাকতে বলা হয়েছে। তবে তাঁদের কারও কোনও রকমের উপসর্গ নেই। জেলা স্বাস্থ্য দফতর থেকে প্রতিদিন দু’বার করে তাঁদের ফোন করে খবর নেওয়া হবে। শনিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে আরও চার জনের নমুনা নিপা পরীক্ষার জন্য কল্যাণী এমসে পাঠানো হয়। সব রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে।অন্যদিকে, শনিবার কেন্দ্রের একটি বিশেষজ্ঞ দল উত্তর ২৪ পরগণায় যায়। তাঁরা বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকা ঘুরে খেজুর রসের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ওই দলে প্রাণী, মহামারিবিদ্যা, সংক্রামক রোগ, জনস্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা ছিলেন। জানা যাচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যে বাদুড়ের সমীক্ষা করার জন্য আরও একটি বিশেষজ্ঞ দল ওই জেলায় আসবে। রাজ্যের বন দফতরের সঙ্গে যৌথ ভাবে তারা কাজ করবে।স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে জানানো হয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথা ব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে কোনও রোগী আসা মাত্রই তাঁকে নিপা ভাইরাস পরীক্ষা করানো যাবে না। ওই পরীক্ষা করানোর আগে স্বাস্থ্য দফতরের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। স্বাস্থ্য দফতরের জনস্বাস্থ্য বিভাগের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, নির্দিষ্ট করে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের কোনও উপসর্গ নেই। তাই, জ্বর বা অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে আসা রোগী আদৌ নিশ্চিত ভাবে নিপা ভাইরাস আক্রান্ত বা সন্দেহজনকের সংস্পর্শে এসেছিলেন কি না সেটি আগে জানতে হবে। যদি হয় তবেই পরীক্ষার কথা ভাবা হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Nipah virus Barasat

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy