ডেঙ্গি যেন থাবা শক্ত করছে উত্তরবঙ্গে। উত্তরে আরও তিন জনের দেহে ডেঙ্গির জীবাণু মেলার খবর মিলেছে। তার মধ্যে দু’জন মালদহ মেডিক্যাল কলেজে, এক জন শিলিগুড়িতে ও আরেকজন জলপাইগুড়ির একটি নার্সিংহোমে ভর্তি।
মালদহ মেডিক্যালে জ্বর নিয়ে ভরতি হয়েছিলেন মনোজ সাহা ও রোজিনা বিবি। মনোজবাবুর বাড়ি ইংরেজবাজার শহরে ও রোজিনার কালিয়াচক ২ ব্লকের মোথাবাড়িতে। ডেঙ্গির জীবাণু মেলার পরে দুজনেরই চিকিৎসা চলছে। জ্বরে আক্রান্তদের জন্য আউটডোরে একটি ফিভার ক্লিনিকও চালু করা হয়েছে। অধ্যক্ষ প্রতীপকুমার কুণ্ডু বলেন, ‘‘আক্রান্তদের রক্তে ডেঙ্গির জীবাণু রয়েছে কি না তা জানতে ম্যাক-এলাইজা পরীক্ষা করা হচ্ছে।’’ এ দিনই ইংরেজবাজারের টাউন হলে পুরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গি নিয়ে একটি কর্মশালা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
শিলিগুড়িতে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাত। এ দিন খালপাড়ার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি আরও এক যুবকের দেহে ডেঙ্গির জীবাণু মিলেছে। তবে জেলা স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, র্যাপিড কিট পরীক্ষায় ডেঙ্গি ধরা পড়লেও ম্যাক এলাইজা পরীক্ষায় কিছু মেলেনি। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে জ্বর নিয়ে আসা এবং শহরের কয়েকটি নার্সিংহোম থেকে পাঠানো অন্তত ২৩টি রক্তের নমুনা এ দিন ডেঙ্গি নির্ণায়ক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেবক রোডের যে আবাসনের কিশোরের দেহে ডেঙ্গির জীবাণু মিলেছে শনিবার ওই আবাসনে যান মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। আবাসনের বাসিন্দাদের একাংশ মেয়রকে লিখিতভাবে অভিয়োগ জানান, তাদের আবাসনের পাশে অন্তত ৩টি জমি দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে রয়েছে। সেখানে বাড়ি তৈরি না হওয়ায় জঙ্গলে ভরে থাকে। নিচু জমিতে জল জমে থাকে। তাতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। ওই কিশোর ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হওয়ার জন্য সেটাই কারণ বলে তাঁরা মনে করেন। ওই জল পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে পুর কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলেন তাঁরা। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসিত বিশ্বাস জানান, ডেঙ্গি সন্দেহে গত দুই দিনে আরও ৬টি রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। কোনওটিতেই ডেঙ্গির জীবাণু মেলেনি।
কলকাতা থেকে জলপাইগুড়ি ফিরে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াবস্তি এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ আশরফ। শহরেরই একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি৷ বৃহস্পতিবার কলকাতা থেকে ফেরার পরই প্রচণ্ড জ্বর হয় তাঁর৷ শুক্রবার একটি বেসরকারি ল্যাবে রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গির জীবাণু মেলে৷ এ দিকে শহরে ডেঙ্গি আক্রান্ত এক রোগীর সন্ধান মিলতেই তৎপর হয় পুরসভা৷ সকালেই ৮নম্বর ওয়ার্ডে যান জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল (জল) সৈকত চট্টোপাধ্যায়৷ পুরকর্মীরা ওই এলাকায় ব্লিচিং ছড়ান৷ বিকেলে আক্রান্ত আশরফক দেখে আসেন সৈকতবাবু৷ পুরসভার চেয়ারম্যান মোহন বসু বলেন, ‘‘পুরসভা সক্রিয়, তেমনই বাসিন্দাদের কী কী করতে হবে সে ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে শীঘ্রই শহরজুড়ে লিফলেট বিলি শুরু হবে৷’’