×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৪ জুন ২০২১ ই-পেপার

জুহিকে লুকিয়ে রাখার ইঙ্গিত দিলীপের

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০৩:১৩

শিশু পাচারে অভিযুক্ত জুহি চৌধুরীর পাশে আগেই দাঁড়িয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং দলের মহিলা মোর্চার সভানেত্রী তথা সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। শনিবার আরও এগিয়ে দিলীপবাবু এক প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘‘জুহির লুকিয়ে থাকা ১০০% সমর্থন করি। পুলিশ আগে সত্য-মিথ্যা প্রমাণ করুক। আমরাই ওকে আইনের সামনে এনে দেব।’’ যা থেকে কার্যত স্পষ্ট, জুহিকে গোপনে আগলে রেখেছেন দিলীপবাবুরাই।

আগে দিলীপবাবু বলেছিলেন, এটা চক্রান্ত হতে পারে। তবে দল এবং পুলিশ তদন্ত করছে। জুহি দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি পাবেন। তবে ধীরে ধীরে জুহির সমর্থনে গলার জোর বাড়াচ্ছেন দিলীপবাবু। এ দিনও জুহিকে সমর্থন করেছেন দিলীপবাবু। তাঁরর লুকিয়ে থাকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সামনে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। এই পুলিশ-প্রশাসনকে বিশ্বাস করি না। বিজেপি দেখে মিথ্যা মামলা দেবে। আমাদের এক জন কর্মী ছ’মাসের জন্য জেলে চলে যাবে।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘জুহি দেশ ছেড়ে যাননি। সুতরাং, পুলিশ ইচ্ছে করলেই তাঁকে গ্রেফতার করতে পারত।’’ তিনি কি জুহির সঙ্গে কথা বলেছেন? দিলীপবাবু বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে কোনও দিন কথা হয়নি। তবে প্রয়োজনে কথা বলব।’’

আরও পড়ুন:কংগ্রেস জুজু দেখিয়ে সেনার চাপ বিজেপিকে

Advertisement

রূপা অবশ্য গোড়া থেকেই সরাসরি জুহির পক্ষে। এ দিনও তিনি বলেন, ‘‘জুহি চক্রান্তের শিকার। ওকে ফাঁসানো হয়েছে।’’ তিনি লুকিয়ে আছেন কেন? রূপার ব্যাখ্যা, ‘‘জুহির বয়স আমার মতো হলে ও লুকোতো না। বাচ্চা মেয়ে। ভয়ে লুকিয়েছে। জানি না, কে ওকে এই বুদ্ধি দিয়েছে।’’ সিআইডি সূত্রের দাবি, রূপার সঙ্গে জুহির দলের কাজের বাইরেও সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদেই জুহি ওই অভিযুক্ত হোমের কর্ণধারদের সরকারি কর্তাদের সঙ্গে দেখা করাতে দিল্লি নিয়ে যান। কেন্দ্রীয় বিজেপির তরফে রাজ্যে দলের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের এক আপ্ত সহায়কের মাধ্যমে দু’পক্ষের অ্যাপয়েন্টমেন্ট হয়।

বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিংহ আবার জুহির লুকিয়ে থাকা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আইনজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই চলতে হবে। অন্য কারও কথার গুরুত্ব নেই। আইনজ্ঞরা যখন পরামর্শ দেবেন, তখনই সামনে আসতে হবে।’’

জুহি-কাণ্ডে দলের নানা মত প্রকাশ্যে আসায় বিজেপি কর্মীরা বিড়ম্বনায় পড়ছেন। তার উপর দিলীপবাবু জুহিকে গোপন আস্তানায় লুকিয়ে রাখার ইঙ্গিত দেওয়ায় বিজেপির অন্দরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। যদিও দিলীপবাবুর বক্তব্য, ‘‘আমাদের দলে সভাপতিই কর্তৃপক্ষ। সুতরাং, আমি যা বলছি, সেটাই শেষ কথা।’’ তাঁর আরও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘বিজেপি-র দরজা-জানলা খোলা আছে। সেখান দিয়ে ঠান্ডা হাওয়া এবং মশা-মাছি— দুই-ই আসছে। তবে স্প্রে করে দিয়েছি। মশা-মাছিরা বেশি ক্ষণ থাকতে পারবে না।’’

Advertisement