ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে মহিলা ভোট নিশ্চিত করতে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের মাথাপিছু বরাদ্দ বাড়বে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক স্তরে চর্চা চলছে। এরই সমান্তরালে প্রশাসনের অন্দরে চর্চা— কেন্দ্রীয় বাজেটের ঘোষণা দেখেই কি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে! সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নড়বড়ে। তাই কেন্দ্রীয় বাজেট দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ঘোষণা হতে পারে। এ ছাড়া, রাজ্যের আসন্ন বাজেট পূর্ণাঙ্গ নয়। তা ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ বা এই আর্থিক বছরের শেষ তিন মাসের জন্য। মে মাসে নতুন সরকার গঠনের পরে হবে আগামী বছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট।
২০২১ সাল থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডারের আওতায় সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মহিলা উপভোক্তারা মাসে মাথাপিছু এক হাজার টাকা করে, সংরক্ষিত জাতিভুক্তরা ১২০০ টাকা করে পান। এখন প্রায় ২.২১ কোটি উপভোক্তাকে এই টাকা দিতে রাজ্যকে বছরে খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়ানো হলে, রাজ্যের কোষাগারে বিপুল চাপ পড়বে। টান পড়বে জরুরি খরচে। বাড়বে ধারের বহরও। প্রশাসনের অন্দরের চর্চা— এই কারণেই হয়তো কেন্দ্রের বাজেট এবং ভোটে তার প্রভাব আগে বুঝে নিতে চাইবে নবান্ন। এমনিতেই চাকরি দুর্নীতি-সহ একাধিক ঘটনায় ভোটারদের একাংশ বিরক্ত। আবার মেয়াদ দীর্ঘ হলে সরকার বিরোধী হাওয়া থাকে। তা ঠেকাতে দুর্বল কোষাগার নিয়ে নয়া ঘোষণা বা চালু প্রকল্পের পরিমার্জন কতটা সম্ভব, তা-ও চর্চার অঙ্গ।
অর্থ-কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ধারের নির্ধারিত সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে এ রাজ্য। আবার জানুয়ারি-মার্চ খরচ চালাতে হবে। ফলে সেই সীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তেমন হলে ধার শোধের খরচ বেড়ে যাবে। তাতে পরিকাঠামো খাতে (যা বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান টেনে আনার অনুঘটক) খরচে ধাক্কা লাগবে। বৃহস্পতিবার আর্থিক সমীক্ষায় লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্প সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরণ জানান, ভারত সরকারের ঋণপত্র আন্তর্জাতিক সূচকের সঙ্গে জড়িত। লগ্নিকারীরা কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্যের কোষাগারের অবস্থাও দেখেন। ফলে ঋণে জড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি হলে রাজ্য চিহ্নিত হয়ে যাবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)