প্রায় আড়াই বছর ধরে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বিবাদের অবশেষে নিষ্পত্তি হল। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়— এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে বাছাই তালিকায় অবশেষে সিলমোহর পড়ল। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি উদয় উমেশ ললিতের নেতৃত্বাধীন বাছাই কমিটি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে প্রথম পছন্দ হিসেবে দ্বৈপায়ন ভরদ্বাজ, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে প্রথম পছন্দ হিসেবে তাপস চক্রবর্তী ও নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রথম পছন্দ হিসেবে রঞ্জন চক্রবর্তীর নাম সুপারিশ করেছিল। তাতে রাজ্যপাল তথা আচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রীর দফতর একমত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট সিলমোহর দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ চার সপ্তাহের মধ্যে তিন জনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে।
রাজ্যের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে ২০২৩ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছিল। রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য বনাম মুখ্যমন্ত্রীর বিবাদের জেরে এ নিয়ে মামলা সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ললিতের নেতৃত্বে কমিটি তৈরি করে দিয়েছিল। রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীকে মুখোমুখি বসার অনুরোধ করেছিল। শেষে দু’পক্ষের আইনজীবীদের একসঙ্গে বসে জট কাটাতে বলেছিল। বাকি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ হয়ে গেলেও গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জট ছিল। তা কেটে যাওয়ার সুপ্রিম কোর্ট আজ প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ললিতের কমিটি, রাজ্যপালের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল আর বেঙ্কটরমাণি, রাজ্যের আইনজীবী জয়দীপ গুপ্তের ভূমিকার প্রশংসা করে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)