রাজ্য বিধানসভার অন্তর্বর্তী বাজেট অধিবেশন দিন কয়েক পিছিয়ে গিয়েছে। ৩১ জানুয়ারি অধিবেশন শুরুর কথা থাকলেও, পরে তা বদল করে ৩ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে। আর এ বার প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই সময়সূচি বদলের কারণে বদলে যেতে পারে রাজ্য মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকের দিনক্ষণ। আগে ঠিক ছিল, ২ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিধানসভায় তাঁর ঘরে রাজ্য মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্তর্বর্তিকালীন বাজেটে অনুমোদন দেবে মন্ত্রিসভা। সেই মর্মে বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছিল। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সূচির বদল হচ্ছে বলে খবর নবান্ন সূত্রে। প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী ২ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তাই ওই দিন মন্ত্রিসভার পূর্বঘোষিত বিশেষ বৈঠকের সম্ভাবনা নেই বলেই জানাচ্ছে নবান্নের একটি সূত্র।
আরও পড়ুন:
যেহেতু ৩১ জানুয়ারির বদলে ৩ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তিকালীন বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আর ৪ ফেব্রুয়ারি মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের শবেবরাত উৎসবের জন্য সরকারি ছুটি দেওয়া হয়েছে, তাই ওই দিন বিধানসভার অধিবেশন বসবে না। ৫ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় বাজেট পেশ করবে রাজ্য সরকার। সপ্তদশ বিধানসভার শেষ বাজেট হবে এটি। তাই বাজেট পেশের আগে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সরকারের অন্তর্বর্তিকালীন বাজেটে অনুমোদন নেবেন মন্ত্রিসভা থেকে। তবে সরকারি ভাবে বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের দিনক্ষণ ঘোষণা করার দায়িত্ব স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাই আগামী ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিধানসভায় তাঁর ঘরে কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই দিনই বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের সূচি ঘোষণা করবেন তিনি।
আর সেই ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখেই মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করবে নবান্ন। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা বিধানসভার অন্তর্বর্তী বাজেট অধিবেশন ৯ তারিখ পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও, পরিস্থিতি বুঝে সেই সূচিতে কয়েক দিন বাড়ানো হতে পারে। কারণ, ৩ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় শোকপ্রস্তাবের পর অধিবেশন মুলতবি হয়ে যাবে। ৪ তারিখ শবেবরাতের ছুটি। ৫ ফেব্রুয়ারি বাজেট অধিবেশন হবে। এর পর কর্মদিবস বলতে থাকছে মাত্র দুই দিন ৬ এবং ৯ তারিখ। মাঝে দু’দিন শনি ও রবিবারের কারণে অধিবেশন বসবে না। তাই আরও কয়েক দিনের জন্য সুনির্দিষ্ট ভাবে অধিবেশনের কাজকর্ম হবে বলেই জানা যাচ্ছে। সেই সময়ে এসআইআর এবং ইডি ও সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার প্রস্তাব এনে আলোচনা হতে পারে।