E-Paper

শুনানি ‘অবৈধ’, নিলম্বিত বিডিও

শুনানি প্রক্রিয়ায় বিস্তর গরমিল ধরা পড়ার পরে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ১২৫ নম্বর, বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের এক এইআরও-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তিনি নিজের সিদ্ধান্তে ১১ জন অফিসারকে শুনানিতে নিয়োগ করেছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৪

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাজ্যের চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ এবং তা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের দড়ি টানাটানি অব্যাহত। এই পরিস্থিতিতে একজন বিডিও তথা সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে (এইআরও) সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিভাগীয় তদন্তের জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিল কমিশন। অভিযোগ, ওই আধিকারিক ‘অবৈধ’ ভাবে শুনানি প্রক্রিয়া চালাচ্ছিলেন।

শুনানি প্রক্রিয়ায় বিস্তর গরমিল ধরা পড়ার পরে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ১২৫ নম্বর, বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের এক এইআরও-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তিনি নিজের সিদ্ধান্তে ১১ জন অফিসারকে শুনানিতে নিয়োগ করেছিলেন। তাতে কমিশন বা তাঁর ঊর্ধ্বতনের অনুমতি নেওয়া ছিল না। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, শুনানির দায়িত্বপ্রাপ্ত মূল আধিকারিক— ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও)। এই ইআরও-কে সহযোগিতার জন্য এইআরও-রা কাজ করছেন। ফলে এইআরও-দের এক্তিয়ার নেই অতিরিক্ত আধিকারিক নিয়োগের। মুখ্যসচিবকে লেখা চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, এর ফলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৩সি ধারা সরাসরি লঙ্ঘিত হয়েছে। কারণ, শুনানি বা এসআইআর সংক্রান্ত আধিকারিকেরা সকলেই কমিশনের অধীনস্থ (ডেপুটেশন)। সেই কারণে অভিযুক্ত এইআরওকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার জন্য মুখ্যসচিবকে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (সিইও) সেই চিঠির প্রতিলিপি পাঠিয়ে কমিশন আরও জানিয়েছে, ‘অসাধু’ ভাবে নিযুক্ত ওই ১১ জনের অধীনে যত শুনানি হয়েছে, তা নতুন করে করাতে হবে। কারণ, তাতে বিস্তর গরমিল ধরা পড়েছে। এই পদক্ষেপ কার্যকর করার রিপোর্টও দ্রুত চেয়েছে কমিশন।

এর আগে ভোটার তালিকায় অসাধু হস্তক্ষেপের অভিযোগে বারুইপুর (পূর্ব) বিধানসভার এক ইআরও, এক এইআরও এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভার এক ইআরও এবং এক এইআরও-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে বলেছিল কমিশন। তাঁদের সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশও করা হয়। চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও এফআইআর করতে বলা হয়েছিল। অনেক পরে চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হলেও, কিছু দিন পরেই তা শেষ করে দেওয়া হয়। এফআইআর দায়ের তখনও করেনি রাজ্য। চলতি মাসের গোড়ায় কমিশন ফের এফআইআর করতে বলে সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকদের। তা কার্যকর হয়নি। এই অবস্থানে রাজ্য ‘বিধি ভঙ্গ’ করেছে বলেই মনে করছে কমিশন। কেন তাদের না জানিয়ে বিভাগীয় তদন্ত রাজ্য শেষ করেছিল, তার লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে মুখ্যসচিবের কাছে। আগের বিভাগীয় তদন্তের ‘কেস রেকর্ড’, শাস্তির সুপারিশ, অভিযুক্তদের বয়ান, অনুসন্ধান রিপোর্ট, তদন্তকারীদের রিপোর্ট-সহ যাবতীয় তথ্যও পাঠাতে বলা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Commission of India Special Intensive Revision BDO

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy