E-Paper

কয়লায় দিনে কোটির বেশি গুন্ডা ট্যাক্স আদায়, দাবি ইডির

বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কয়লার লরি ঝাড়খণ্ড থেকে আসানসোল-দুর্গাপুর এলাকায় অবাধে আসার পরই ওই ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ (জিটি) তোলা হত বলে দাবি ইডির তদন্তকারীদের। পুলিশের নিচুতলার একটি অংশ, স্থানীয় দুষ্কৃতী এবং কয়লা মাফিয়াদের‌ সিন্ডিকেট ২০২৩ সাল থেকে ওই টাকা আদায়ে তৎপর ছিল বলে দাবি ইডি-র।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৭

— প্রতীকী চিত্র।

প্রতি টন কয়লায় ‘জিটি’ অর্থাৎ গুন্ডা ট্যাক্সের ভাগ ১০০০ টাকা বলে ইডির তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি, এক-একটি লরিতে প্রায় ৪০ টন কয়লা পাচার করা হত। আর রোজ গড়ে ৩০০টি লরি ঝাড়খণ্ড থেকে এ রাজ্যের বিভিন্ন ইটভাটা ও স্পঞ্জ আয়রন কারখানায় বেআইনি কয়লা সরবরাহ করত। সেই হিসেবে ২০২৩ থেকেই দিনে গড়ে এক কোটি কুড়ি লক্ষ টাকার ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ তোলা হয়েছে বলে আদালতে রিপোর্ট পেশ করে জানিয়েছে ইডি।

বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কয়লার লরি ঝাড়খণ্ড থেকে আসানসোল-দুর্গাপুর এলাকায় অবাধে আসার পরই ওই ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ (জিটি) তোলা হত বলে দাবি ইডির তদন্তকারীদের। পুলিশের নিচুতলার একটি অংশ, স্থানীয় দুষ্কৃতী এবং কয়লা মাফিয়াদের‌ সিন্ডিকেট ২০২৩ সাল থেকে ওই টাকা আদায়ে তৎপর ছিল বলে দাবি ইডি-র।

২০২৫এর মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত এই কয়লা পাচারের রমরমা চলেছে বলে ইডি-র রিপোর্টে উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি, ওই পর্বে দু’বছরের কিছু বেশি সময়ে কয়লা পাচারের গুন্ডা ট্যাক্স বাবদ কয়েক হাজার কোটি টাকা তোলা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের সহযোগিতায় জাল চালান এবং প্যাড তৈরি করে কয়েক শো কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের কয়লা পাচারের মামলায় ওই সিন্ডিকেটের দুই মাথা মামা-ভাগ্নে চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খানকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে ইডি। আদালতের নির্দেশে ওই দু'জন এখন ইডির হেফাজতে। ওই মামলার সূত্রেই সিবিআই বিশেষ আদালতে ২৯ পাতার একটি তদন্ত রিপোর্টও জমা দিয়েছে ইডি।

ওই রিপোর্টে মামলার তদন্তকারী অফিসারের দাবি, চিন্ময় ও কিরণ আসানসোল-দুর্গাপুর এলাকায় স্থানীয় দুষ্কৃতী এবং মাফিয়াদের নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করেছিল। এবং ওই সিন্ডিকেটের অন্যতম অংশীদার নিচু তলার পুলিশের একটি অংশ। পাশাপাশি প্রভাবশালী মহল তথা স্থানীয় রাজনৈতিক শাসকদলের নেতাদের একটি অংশও রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, মাস দুয়েক ধরে ঝাড়খণ্ড এবং এ রাজ্যের কয়লা মাফিয়া ও সিন্ডিকেটের একাধিক পান্ডা, প্রভাবশালী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে লিখিত এবং বৈদ্যুতিন নথি অর্থাৎ ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের সিপিইউ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। সব নথিতেই সাল ও তারিখ ধরে লরি প্রতি গুন্ডা ট্যাক্সের অঙ্ক লেখা ছিল। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সরাসরি গুন্ডা ট্যাক্স নয় সাংকেতিক ভাষায় 'জিটি'লেখা ছিল। লরির নম্বর অনুযায়ী কত টাকা প্রতিদিন তোলা হয়েছে তার খুঁটিনাটি হিসেবও লিখিত এবং ল্যাপটপের নথিতে রাখা হয়। ১৮-২০ জন কয়লা মাফিয়াকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদেই জিটি-র বিষযটি প্রকাশ্যে আসে।

ইডি-র কর্তাদের দাবি, ওই গুন্ডা ট্যাক্সের একটা বড় অংশ পুলিশের বড় কর্তাদের একাংশ এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Coal Smuggling

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy