Advertisement
E-Paper

তৃণমূল কার? মমতা ও ঋতব্রত দুই শিবিরকেই চিঠি কমিশনের! সোমবার বিকেলের মধ্যেই জবাব চাইলেন জ্ঞানেশ কুমারেরা

তৃণমূলের চেয়ারম্যান হিসেবে মমতা আগেই দলের জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা জমা দিয়েছিলেন কমিশনে। পরে ঋতব্রতেরা নতুন কর্মসমিতি তৈরি করেন। দিল্লি গিয়ে তিনি কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখাও করেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ২০:৪৭
(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তৃণমূল কার দখলে থাকবে? তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দাবি এবং পাল্টা দাবির ভিত্তিতে তাঁদের চিঠি দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মমতা, ঋতব্রত দু’পক্ষকেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ জুলাই, সোমবারের মধ্যে দু’জনের জবাব চেয়েছে কমিশন। বলা হয়েছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে নথিপত্র-সহ তাঁদের বক্তব্য জানাতে হবে।

নিজেকে তৃণমূলের চেয়ারম্যান বলে উল্লেখ করে মমতা আগেই দলের জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা জমা দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনে। তার পর ঋতব্রতেরা পৃথক বৈঠক করেন এবং আলাদা করে জাতীয় কর্মসমিতি তৈরি করেন। তাতে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূলের’ চেয়ারম্যান করা হয়। মমতা বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই তালিকায় ছিলেন না। ঋতব্রতদের পক্ষ থেকেও কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

এর পর বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গিয়ে ঋতব্রত দেখা করেন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মোট ১০ জন— তাঁদের মধ্যে ন’জন বিধায়ক এবং এক জন প্রাক্তন মন্ত্রী। বেলা ১২টায় তাঁদের সময় দিয়েছিলেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সাক্ষাতের পর বেরিয়ে ঋতব্রত জানান, তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’। নতুন কর্মসমিতির বিষয়ে অবহিত করতে জ্ঞানেশের সময় চেয়েছিলেন তাঁরা। দলের প্রতীক এবং তহবিল কোন শিবিরের হাতে যাবে, এই প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত বলেন, “কোনও রকম বিতর্কের কোনও প্রশ্নই নেই। দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। প্রাক্তন মন্ত্রীরা আমাদের সঙ্গে। কাউন্সিলরেরা আমাদের সঙ্গে, জেলা পরিষদের সদস্যেরাও আমাদের সঙ্গে।”

প্রয়োজনীয় নথি কমিশনে জমা দিয়েছেন বলেও জানান ঋতব্রত। এর পরেই বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূলের দুই শিবিরকে চিঠি দিলেন জ্ঞানেশ। সূত্রের খবর, তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দাবি এবং পাল্টা দাবির কারণে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে দুই শিবিরের মতামত জানতে চেয়েছে কমিশন। নিজেদের বক্তব্যের সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও তাঁদের জমা দিতে বলা হয়েছে। দুই শিবিরের লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতে কমিশন তৃণমূল সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরেই দলে ভাঙন শুরু হয়। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করে বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিল কালীঘাট। কিন্তু ঋতব্রত জানান, তিনি এই সিদ্ধান্ত মানেন না এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থনে স্পিকারকে তিনি পাল্টা চিঠি দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনের ভিত্তিতে তাঁকেই বিরোধী দলনেতা করা হয়। এর পর থেকেই কালীঘাট এবং ঋতব্রত শিবিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট হতে শুরু করে। দলের প্রতীক, তহবিল দখলের জন্য দুই তরফেই তৎপরতা শুরু হয়। ইতিমধ্যে টানাপড়েনের কারণে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করে দেওয়া হয়েছে। সেই বিতর্কেই এ বার দুই শিবিরের বক্তব্য চেয়ে পাঠাল কমিশন।

Election Commission of India Gyanesh Kumar Ritabrata Banerjee Mamata Banerjee TMC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy