ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার জন্য অমর্ত্য সেনকে শুনানিতে ডেকে পাঠানোর কোনও নোটিস পাঠানো হয়নি। এমনটাই বলছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতর। মঙ্গলবার বীরভূমের রামপুরহাটে গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্যকে এসআইআরের নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। তার পরেই কমিশনের সূত্র বলছে, অমর্ত্যের পূরণ করা এসআইআর ফর্মে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (তথ্যগত ভুল) রয়েছে। তাঁকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়নি।
কমিশনের সূত্র বলছে, অমর্ত্যের পূরণ করা এসআইআর ফর্মে কোনও তথ্যগত ভুল রয়েছে। কোনও নামের বানানে ভুল থাকতে পারে। কমিশনের চোখে তা পড়েছে। বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও) তাঁর বাড়িতে গিয়ে সেই ভুল সংশোধন করে নিয়ে আসবেন। অমর্ত্য যা বলবেন, সেই অনুযায়ী তথ্য সংশোধন করে দেওয়া হবে। এমনটাই বলছে কমিশনের সূত্র।
মঙ্গলবার বীরভূমের রামপুরহাটের সভায় অভিষেক জানান, অমর্ত্যকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘হায় রে পোড়া কপাল! আসতে আসতে শুনছিলাম, অমর্ত্য সেনকে নোটিস পাঠিয়েছে। ভারতের জন্য নোবেল পুরস্কার জিতে এনেছেন। দেশের নাম বিশ্বসভায় বিশ্ববন্দিত করেছেন। যাঁকে দেখে এ দেশকে মানুষ চেনেন, যাঁর হাত ধরে দেশ সমৃদ্ধ হয়েছে, তাঁকে এসআইআরের নোটিস পাঠিয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
এই প্রসঙ্গে অভিষেক অভিনেতা তথা তৃণমূল সাংসদ দেব এবং ক্রিকেটার মহম্মদ শামিকে এসআইআরের নোটিস পাঠানোর কথাও তোলেন। তিনি বলেন, ‘‘বাংলা সিনেমার উজ্জ্বল নক্ষত্র, তাঁকে হিয়ারিং নোটিস পাঠিয়েছে। মহম্মদ শামি, যে বিশ্বকাপ খেলে বিশ্বকাপ জিতেছে, তাকেও এসআইআরের নোটিস পাঠিয়েছে। নোটিস পাঠিয়ে আনম্যাপ করার চক্রান্ত। যারা বাংলার মানুষকে আনম্যাপ করতে চায়, তাদের বাংলা থেকে আনম্যাপ করে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে।’’ প্রসঙ্গত, এসআইআরের শুনানিতে তলব করা হয়েছে সাংসদ অভিনেতা দেব ওরফে দীপক অধিকারীকে। তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যও নোটিস পেয়েছেন। সোমবার যাদবপুরের কার্জননগর স্কুলের শুনানিতে ডাকা হয়েছিল ক্রিকেটার শামিকে। ক্রিকেট খেলার ব্যস্ততার কারণে শহরে নেই শামি। তাই পরিবারের পক্ষ থেকে কমিশনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপাতত শুনানিতে হাজিরা দিতে পারছেন না তিনি।
তবে সিইও দফতরের সূ্ত্রে জানা গিয়েছে, অমর্ত্যকে এসআইআরের নোটিস পাঠানো হয়নি। বিএলও তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁর কথামতো একটি তথ্য সংশোধন করে আনবেন।