জন্মের আগেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে জন্মের শংসাপত্র! ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) নথি যাচাইয়ের সময় গরমিল খুঁজে পেল নির্বাচন কমিশন। এক ভোটারের জন্মের শংসাপত্রে গরমিল পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। বরাহনগরের বাসিন্দা ওই ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সর্বত্র এসআইআরের শুনানি পর্ব শেষ হয়েছে। দু’একটি জেলার কিছু বিধানসভা অঞ্চলে এখনও শুনানির কাজ চলছে। ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি শেষ করার কথা ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজ্যের সব এলাকায় শুনানি পর্ব শেষ করতে হবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। এই পর্যায়ে অধিকাংশ জেলাতেই শুনানিতে পাওয়া নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। তাতেই ধরা পড়ছে একাধিক গলদ।
আরও পড়ুন:
কমিশন সূত্রে খবর, বরাহনগরের যে ভোটারের নথিতে গরমিল চিহ্নিত করা হয়েছে, তিনি শুনানিতে জন্মের শংসাপত্র জমা দিয়েছিলেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, তাঁর জন্মের তারিখ ১৯৯৩ সালের ৬ মার্চ। কিন্তু শংসাপত্রটি নথিভুক্ত করা হয়েছে ৪ মার্চ। কী ভাবে তা সম্ভব হল, খতিয়ে দেখবে কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর (সিইও) সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নথিতে আরও অনেক ধরনের গরমিল ধরা পড়ছে। অনেকে এনুমারেশন ফর্মটিতে জন্মের তারিখই লেখেননি। জন্মের তারিখের জায়গা হয় ফাঁকা রেখেছেন, নয়তো কোনও না কোনও চিহ্ন বসিয়ে রেখেছেন। আবার দেখা গিয়েছে, একই এলাকায় অনেকের জন্মের তারিখ এক। যদিও একে গরমিল বলে ধরা হচ্ছে না।
২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁরা নিজেদের কোনও রকম যোগসূত্র দেখাতে পারেননি, ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় রেখে তাঁদের শুনানিতে ডেকেছিল কমিশন। এ ছাড়া, তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে বহু ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। সেই সমস্ত নথি এখন যাচাই করে দেখা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, নামের বানানে সামান্য ভুলের কারণে তালিকা থেকে কারও নাম যেন বাদ না-যায়, তা কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও সংবেদনশীল হতে হবে কমিশনের আধিকারিকদের।