Advertisement
E-Paper

নয়া বনাঞ্চলেও পেটে টান, হাতিরা গ্রামমুখী

তারা যাতে হুটহাট লোকালয়ে ঢুকে না-পড়ে, সেই জন্য বনাঞ্চল গড়ে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই বনাঞ্চলে পর্যাপ্ত খাবার না-মেলায় দলমার হাতিরা ফের হানা দিচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়ার লোকালয়ে। এমনই তথ্য উঠে এসেছে বন দফতরের নিজস্ব সমীক্ষায়।

অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:০৪

তারা যাতে হুটহাট লোকালয়ে ঢুকে না-পড়ে, সেই জন্য বনাঞ্চল গড়ে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই বনাঞ্চলে পর্যাপ্ত খাবার না-মেলায় দলমার হাতিরা ফের হানা দিচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়ার লোকালয়ে। এমনই তথ্য উঠে এসেছে বন দফতরের নিজস্ব সমীক্ষায়। এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়, তা নিয়ে আতান্তরে বন দফতরের কর্তারা।

মূলত খাবারে টান পড়লেই দলমার দামাল দাঁতালেরা লোকালয়ে আসে। বনাঞ্চল গড়ে বছরভর তাদের সেই খাবার জোগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও পর্যাপ্ত খাদ্য মিলছে না বলেই তারা ফের মানুষের বসত ও চাষের এলাকায় হানা দিচ্ছে। বন দফতর দেখেছে, যে-সব হাতি দলমা থেকে নেমে আসছে, তাদের অনেকে আর পাহাড়ে বা বনাঞ্চলে ফিরে যাচ্ছে না। প্রতি বছরই তিন-চারটি হাতি দলছুট হয়ে থেকে যাচ্ছে। সংখ্যাটা এখন গিয়ে পৌঁছেছে ২৫-এ। রীতিমতো ত্রাসের সৃষ্টি করেছে ওই ‘উদ্বাস্তু’ হাতির দল।

দলমার হাতিদের ফি-বছরই লোকালয়ে হানা দেওয়ার প্রবণতা দেখে ১৫ বছর আগে জঙ্গলমহলের ময়ূরঝর্নায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল গড়ে দিয়েছিল বন দফতর। প্রথম কয়েকটা বছর ওই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আটকে রাখা গিয়েছিল হাতিদের। কিন্তু সেই পথ এড়িয়ে দলমার হাতিরা ইদানীং আবার সরাসরি ঢুকে পড়ছে জনপদে।

এক বন কর্তা জানান, দলমা থেকে

আসা হাতিদের এত দিন রানিবাঁধ-ঝিলিমিলির দিকে পাঠানো হচ্ছিল। হাতিরা বেশ ছিল ময়ূরঝর্নায়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সে-দিকে না-গিয়ে হাতিরা নেমে আসছে আমলাশোল, গড়বেতা, বিষ্ণুপুর হয়ে। পথে তারা নষ্ট করছে শস্য, বাড়িঘর। কখনও কখনও খেপে গিয়ে পিষে দিচ্ছে গ্রামবাসীদের। দিনের পর দিন হাতির হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন গ্রামবাসীরাও। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সেই ক্ষোভের সামনে পড়ে মাঝেমধ্যে নিগৃহীত হচ্ছেন বনকর্মীরা।

হাতিরা ময়ূরঝর্নার পরিকল্পিত বনাঞ্চল ছেড়ে আসছে কেন?

বন দফতরের কেউ কেউ বলছেন, গত কয়েক বছরে ময়ূরঝর্না লাগোয়া এলাকায় হাতির খাবার কমেছে। খাবার সংগ্রহ করতে হাতিদের বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে। লোকালয়ে পাকা ধান সহজলভ্য। তার টানেই হাতির দল ঢুকে পড়ছে গ্রামাঞ্চলে। রাজ্যের বন দফতরের মুখ্য বনপাল (পশ্চিম) বিনোদ যাদব বলছেন, দলমার হাতিরা শুধু ওই এলাকায় ঢুকছেই না, সাত-আট মাস থেকেও যাচ্ছে। কখনও কখনও বাঁকুড়া থেকে দামোদর পেরিয়ে ঢুকে পড়ছে দুর্গাপুরের মতো শিল্পাঞ্চলে। অনেকে পাকাপাকি ভাবে থেকেও যাচ্ছে। সেই সংখ্যাটা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় প্রমাদ গুনছে বন দফতর।

ওই দফতরের খবর, বিষ্ণুপুর, পাত্রসায়র এলাকায় পাকাপাকি ভাবে থেকে যাওয়া হাতিগুলি কিন্তু দলবন্ধ নয়। প্রত্যেকেই নিজের মতো চরে বেড়াচ্ছে। তার ফলে কে কখন কোন এলাকায় ঢুকে পড়বে, সেটা আঁচ করতে পারছেন না বনকর্মীরা। হাতি তাড়াতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে তাঁদের। অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন এক বনকর্মী, ‘‘এক গ্রামে হয়তো একটা হাতি তাড়াতে গেলাম। কাজ শেষ হতে না-হতেই খবর এল, অন্য গ্রামে আর একটা দাঁতাল ঢুকে পড়েছে!’’

আগে আগন্তুক দামালের পাল থেকে গুন্ডা হাতি হিসেবে চার-পাঁচটিকে পাকড়াও করা হতো। তাতে হাতির উৎপাত কমানোও যেত। ‘‘কিন্তু কেন্দ্রীয় বন মন্ত্রকের নির্দেশে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে,’’ বললেন বন দফতরের এক কর্তা।

বনকর্তাদের একাংশের বক্তব্য, হাতির হামলায় আগে ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসারেরা সরাসরি ক্ষতিপূরণ দিতেন। এখন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় ট্রেজারির মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় লাগে। তাতে হয়রান হতে হয় গ্রামবাসীদের। তাই তাঁদের ক্ষোভ বাড়ছে। বন দফতরের অন্য একটি অংশ অবশ্য জানাচ্ছে, ক্ষতিপূরণের মতো আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতেই ডিএফও-র হাত থেকে এই ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে ট্রেজারির হাতে দেওয়া হয়েছে।

হাতির সমস্যা মেটাতে কী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন বনকর্তারা?

বনকর্তারা জানান, বেশ কয়েকটি ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়েছে। তার মধ্যে আছে:

• হাতির পথ রুখতে বৈদ্যুতিক তারের বেড়া দেওয়া।

• ময়ূরঝর্নার আশপাশের এলাকায় হাতির মনপসন্দ গাছপালা বেশি করে লাগানো।

• বনে হাতির যাতায়াতের পথ বরাবর বেশি জলের ব্যবস্থা করা।

• বেশ কিছু এলাকায় মাটি কেটে ট্রেঞ্চ বা গর্ত খোঁড়া। যাতে হাতিরা আর ওই রাস্তায় যেতে না-চায়।

• হাতির হামলার মুখে পড়া গ্রামগুলির চার পাশে বৈদ্যুতিক বেড়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম লাগানো।

• কুনকি হাতি এবং হুলাপার্টির সদস্য-সংখ্যা বাড়ানো।

elephants food amitava bandopadhay
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy