E-Paper

কয়লার টাকা সরাতে হাওয়ালা, দাবি ইডির

ইডির তদন্তকারীদের দাবি, পুলিশের নিচুতলা এবং বড় কর্তাদের পাশাপাশি বন দফতরের বিভিন্ন পদের অফিসারদের একাংশেরও কয়লা মাফিয়াদের সঙ্গে যোগসাজশ ছিল।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৮
গ্রাফিক আনন্দবাজার ডট কম।

গ্রাফিক আনন্দবাজার ডট কম।

বেআইনি কয়লা পাচারেরকয়েক হাজার কোটি কালো টাকা আটঘাট বেঁধে নিয়মিত নির্দিষ্ট হাওয়ালা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভিন্ রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা ও বিদেশে পাচার করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে দাবি ইডির।

২০২৫ সালের কয়লা পাচারের মামলার তদন্তে ঝাড়খণ্ড থেকে এ রাজ্যে ঢোকা কয়লার পিছনে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত নানা তথ্য সূত্র আদালতে পেশ করা রিপোর্টে তুলে ধরেছেন তদন্তকারীরা। তাতেই সেই কালো টাকা সাদা করার নানা কৌশল এবং হাওয়ালার মাধ্যমে এ দেশের, বিদেশের বিভিন্ন সংস্থা বা সম্পত্তিতে বিনিয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

ইডির তদন্তকারীদের দাবি, পুলিশের নিচুতলা এবং বড় কর্তাদের পাশাপাশি বন দফতরের বিভিন্ন পদের অফিসারদের একাংশেরও কয়লা মাফিয়াদের সঙ্গে যোগসাজশ ছিল। ২০২৩ থেকে ২০২৫-এরমার্চ পর্যন্ত কয়লা পাচারের ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ বাবদ তোলা রোজকার এক কোটি ২০ লক্ষ টাকা নির্দিষ্ট খাতে ভাগ করা হত বলে দাবি। এর পরে তা রোজই হাওয়ালার মাধ্যমে সরানো হত বলে তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

ইডির এক কর্তা বলেন, ‘‘কয়লা পাচারের কালো টাকা সাদা করতে একটি নির্দিষ্ট হাওয়ালা সিন্ডিকেট তৈরি করেছিল প্রভাবশালী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা। সেই সিন্ডিকেট তৈরির নেপথ্যে প্রভাবশালী এক আইনজীবীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ওই মামলায় জড়িত রাজ্যের প্রভাবশালী ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীকেও সম্প্রতি কলকাতা, দিল্লির সদর দফতরে ডেকে বেশ কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি আদতে রানিগঞ্জের বাসিন্দা। তাঁর রানিগঞ্জের বাড়ি এবং কলকাতার ফ্ল্যাট, অফিসে তল্লাশি চালিয়ে হাওয়ালা মারফত কয়লা পাচারের টাকা প্রভাবশালী ঘনিষ্ঠদের কোন কোন সংস্থায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার খুঁটিনাটি নথি উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক শো কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্পত্তির দলিলেরও হদিস মিলেছে।’’

তদন্তে উদ্ধার নথির ভিত্তিতে ঝাড়খণ্ড এবং দিল্লির চার জন হাওয়ালা ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও ইডির তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি। তাদের কাছ থেকেও কয়লা পাচারের কালো টাকা সাদা করার বিভিন্ন নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ওই সব নথির ভিত্তিতেও কয়লা পাচারের সঙ্গে জড়িত নিচুতলার পুলিশ এবং পুলিশের বড় কর্তাদের আর্থিক লেনদেনের নানা সূত্র উঠে এসেছে বলে কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দাদের তরফে দাবি করা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Enforcement Directorate Coal Smuggling

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy