Advertisement
E-Paper

পরিবেশে ফের আটকাল গজলডোবা

গজলডোবায় রাজ্য সরকারের নির্মীয়মাণ পর্যটন কেন্দ্রের উপরে স্থগিতাদেশ জারি করল জাতীয় পরিবেশ আদালত। বৃহস্পতিবার কলকাতায় জাতীয় পরিবেশ আদালতের পূর্বাঞ্চলীয় বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য যত দিন না পরিবেশ ছাড়পত্র মিলছে, তত দিন এর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ অগস্ট ২০১৬ ০৩:১১

গজলডোবায় রাজ্য সরকারের নির্মীয়মাণ পর্যটন কেন্দ্রের উপরে স্থগিতাদেশ জারি করল জাতীয় পরিবেশ আদালত। বৃহস্পতিবার কলকাতায় জাতীয় পরিবেশ আদালতের পূর্বাঞ্চলীয় বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য যত দিন না পরিবেশ ছাড়পত্র মিলছে, তত দিন এর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হবে।

উত্তরবঙ্গের নদী ও অরণ্যের দূষণ নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালত বা ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। তারই অংশ ছিল গজলডোবায় পর্যটন দফতরের প্রস্তাবিত ‘মেগা ট্যুরিজম’ প্রকল্প। এ দিন আদালতে সুভাষবাবু বলেন, ওই পর্যটন প্রকল্প বৈকুণ্ঠপুর অরণ্যের মধ্যে পড়ে। এলাকাটি হাতিদের করিডর। এ ছাড়াও প্রচুর পরিযায়ী পাখি সেখানে আসে। এই এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন হলে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে। গজল়ডোবার ওই প্রকল্পে পরিবে‌শ সংক্রান্ত ছাড়পত্র রয়েছে কি না, ১৪ জুলাইয়ের শুনানিতে তা জানতে চেয়েছিল আদালত। এ দিন সে ব্যাপারে কোনও হলফনামা দিতে পারেনি রাজ্য পর্যটন দফতর।

উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে তুলে ধরতেই গজলডোবায় এই কেন্দ্র গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইকো-রিসর্ট ছাড়াও স্পা, বিনোদন পার্ক থাকবে। আবার একই সঙ্গে প্রকৃতির শোভাও উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা। পাশাপাশি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ দিন জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ শোনার পরে কিছুটা হলেও মুষড়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গজলডোবায় কাজ শুরু হয়েছে। কিছু কিছু পর্যটক একবেলায় ঘুরে যাওয়ার জন্য আসতেও শুরু করেছেন। এই অবস্থায় স্থগিতাদেশ গোটা প্রক্রিয়াকে ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। সে তিনি লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব এবং মূর্তি-ধূপঝোরা এলাকার রিসর্ট মালিকদের সংগঠন ‘গরুমারা ট্যুরিজম ওয়েলফেরায় অ্যাসোসিয়েশনের’ কার্যকরী সভাপতি অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায় হোন বা মালবাজারের গাড়িচালক নিরুপম সাহা। স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলের পার্শ্বশিক্ষক প্রবীর সরকারের মতো অনেকে এখানো গাইডের কাজ করার কথা ভেবে রেখেছেন। হতাশ তাঁরাও।

উত্তরবঙ্গের পরিবেশকর্মীরা নিরপেক্ষ সমীক্ষা করে ছাড়পত্র পাওয়ার পরই পর্যটন কেন্দ্র গড়ার পক্ষে। পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ন্যাফের মুখপাত্র অনিমেষ বসু বলেন, ‘‘পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্ব পাবার পরই গৌতম দেব আশ্বস্ত করেছিলেন, গজলডোবায় হাব হবে পরিবেশের কথা মাথায় রেখে। আমরা ওঁর ওপর ভরসা রেখেছি।’’ তিনি জানান, গজল়ডোবার বিস্তীর্ণ এলাকাকে পাখিদের অভয়ারণ্য ঘোষণার দাবি করছেন। কয়েক বছরেই কেন্দ্র তাতে সিলমোহর দিতে পারে। সুভাষবাবু অবশ্য বলেন, ‘‘আমি উন্নয়নের বিরোধী নই। কিন্তু উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হোক, সেটাই আমি চাই।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy