চলতি বছরের সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র মূল্যায়ন হয়েছে অন স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতিতে। স্ক্যান করা প্রায় ৯৮ লক্ষ উত্তরপত্র পরীক্ষকদের কাছে পাঠানোর পরে তাঁরা সেগুলি মূল্যায়ন করেছেন কম্পিউটারে। আর এই পদ্ধতি নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ফল বেরোনোর পরে পরীক্ষার্থীদের একাংশ বার বার অভিযোগ করছেন, ওএসএম পদ্ধতিতে অনেকেরই মূল্যায়ন ঠিক ভাবে হয়নি। এ বার এই বিষয়টি নিয়ে সরব হলেন পরীক্ষকদের একাংশও। তাঁদের অভিযোগ, ওএসএম পদ্ধতিতে খাতা দেখার জন্য শিক্ষকদের যে নিবিড় প্রশিক্ষণের প্রয়োজন ছিল, তা ঠিক মতো হয়নি।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, ওএসএম পদ্ধতিতে এ বার যে উত্তরপত্রের মূল্যায়ন হবে, সে কথা তাঁরা পরীক্ষার ছ’মাস আগেও জানতেন না। এই তথ্য তাঁদের কাছে আসে পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাত্র এক মাস আগে। ওই শিক্ষকদের মতে, ওএসএম পদ্ধতিতে ঠিক ভাবে মূল্যায়নের জন্য অন্তত ছ’মাসের প্রশিক্ষণ জরুরি ছিল। বাস্তবে মাত্র ৪৫ মিনিট করে বার চারেক তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষকেরা আরও জানাচ্ছেন, মাত্র ৪৫ মিনিটের এই প্রশিক্ষণ মূলত কম্পিউটারের শিক্ষকেরা ভাল বুঝতে পারবেন। তাঁরা প্রশিক্ষণ নিয়ে অন্য শিক্ষকদের বুঝিয়ে দিলে ভাল হত। কিন্তু বহু স্কুলে কম্পিউটারের পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। ফলে, অনেক শিক্ষক প্রশিক্ষণে যথেষ্ট সময় পাননি।
পরীক্ষকদের একাংশ আরও জানাচ্ছেন, ফল বেরোনোর দিন দশেক আগে থেকে অন্য পরীক্ষকদের কাছে থাকা খাতা তাঁদের কাছে আসতে শুরু করে। দেখা যায়, যাঁরা ওএসএম পদ্ধতিতে খাতা দেখতে পারেননি, সেই খাতাগুলি ওই পরীক্ষকদের কাছে এসেছে। অভিযোগ, সিবিএসই বোর্ড থেকে বলা হয়, ওই খাতাগুলিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেখে দিতে হবে। শিক্ষকদের এ-ও অভিযোগ, বেশ কিছু উত্তরপত্রের স্ক্যান ছিল অস্পষ্ট। পাশাপাশি, বাংলার খাতা ইংরেজি মাধ্যমে দেখতে নির্দেশ দিয়েছিল সিবিএসই বোর্ড। কারণ, বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, ত্রিপুরা ছাড়া অন্য কোনও রাজ্যে বাংলা খাতা বাংলা মাধ্যমে দেখা যাবে না। এর ফলে যাঁরা বাংলা খাতা দেখেছেন, সেই শিক্ষকদের প্রভূত অসুবিধা হয়েছে। ফল বেরোনোর মাত্র কয়েক দিন আগে পর্যন্তও খাতা দেখা চলেছে। সেই নম্বর বোর্ডে জমা দেওয়ার আগে কোনও স্ক্রুটিনি হয়নি। যার জন্য কোথাও কোনও ত্রুটি রয়ে গিয়েছে কিনা, তা-ও ধরা পড়েনি।
যদিও সিবিএসই বোর্ড জানিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লিতে তাদের আধিকারিকদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বৈঠক হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নে যা যা অসুবিধা হয়েছে, সে সব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। পরীক্ষার্থীদের বোর্ড আশ্বাস দিয়েছে, সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। ছাত্রছাত্রীরা কোনও ভাবেই বঞ্চিত হবেন না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)