দুর্গ রক্ষা করতে পারলেন না অধীররঞ্জন চৌধুরী। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লাগাতার চেষ্টার পর অবশেষে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের দখল নিয়ে নিল রাজ্যের শাসক দল। শুক্রবার মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের আরও ৭ কংগ্রেস সদস্য এবং তিন বাম সদস্য তৃণমূল ভবনে এসে আনুষ্ঠানিক ভাবে দলবদলের কথা ঘোষণা করলেন। এবং মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক তথা রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী ঘোষণা করলেন, মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা এখন ৩৯।
২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে মাত্র একটি জেলা পরিষদ আসনে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। ৭০ আসনের জেলা পরিষদে কংগ্রেসের আসন ছিল ৪২, বামেদের ছিল ২৭। কিন্তু চলতি বছর থেকেই কংগ্রেস এবং বাম সদস্যদের ভাঙিয়ে এনে জেলা পরিষদে নিজেদের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর অভিযানে নামে শাসক দল। সপ্তাহ দু’য়েক আগেই জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা বেড়ে ২৯ হয়েছে। দফায় দফায় কংগ্রেস থেকে ১৮ জন এবং বামেদের থেকে ১০ জন জেলা পরিষদ সদস্যকে ভাঙিয়ে ওই ২৯-এ পৌঁছেছিল তৃণমূল। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিজেদের অবশিষ্ট ২৪ জন এবং বামেদের অবশিষ্ট ১৭ জন জেলা পরিষদ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বোর্ডের দখল ধরে রেখেছিলেন বহরমপুরের ‘রবিনহুড’ তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। শুক্রবার অধীরের দুর্গ ধসে গেল এক সঙ্গে আরও ১০ সদস্য যোগ দিলেন তৃণমূলে। ৭ জন কংগ্রেস থেকে। ৩ জন বামফ্রন্ট থেকে। ফলে তৃণমূল বেড়ে পৌঁছে গেল ৩৯-এ। কংগ্রেসে রইলেন আর ১৭ জন। বামে রইলেন ১৪ জন।
আরও পড়ুন: তুষারকে প্রার্থী করা ‘ভুল’, ক্ষমা চাইলেন অধীর
দলত্যাগী কংগ্রেস ও বাম সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এ দিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন শুভেন্দু অধিকারী। মুর্শিদাবাদে তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে গিয়েছে বলে তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেন। শুভেন্দু জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদে। কংগ্রেসের বোর্ড ফেলে দিয়ে নতুন করে বোর্ড গঠন করবে তৃণমূল।
কংগ্রেস স্বাভাবিক ভাবেই এর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। বহরমপুরের কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী এ দিন বলেন, ‘‘যে ভাবে জোর করে দল ভাঙিয়ে বিরোধীদের হাতে থাকা সব বোর্ড ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তা রাজ্যের মানুষ ভাল চোখে দেখছেন না। মানুষ তৃণমূলকে এর জবাবও দেবেন।’’ দলত্যাগী জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন, তাঁদের বলব বড় বড় কথা না বলে আগে জনপ্রতিনিধি পদ থেকে ইস্তফা দিন। তার পর তৃণমূলের টিকিটে জিতে এসে প্রমাণ করুন যে জনসমর্থন আপনাদের সঙ্গে রয়েছে।’’
শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য বিরোধীদের বোর্ড নিজেদের দখলে নেওয়ার পক্ষে জোরদার সওয়াল করেছেন। তিনি শুক্রবার বলেছেন, ‘‘মুর্শিদাবাদ তো রাজ্যের বাইরে নয়। গোটা রাজ্য যখন তৃণমূলে, তখন মুর্শিদাবাদ কেন তৃণমূলের বাইরে থাকবে?’’ জেলা পরিষদ সদস্যদের দলত্যাগ করানোর প্রসঙ্গে তিনি ফের বলেন, ‘‘সংবিধানে যেমন দল গঠনের সংস্থান রয়েছে, তেমনই দলত্যাগের সংস্থানও রয়েছে। আমরা যা করছি, আইন মেনেই করছি।’’