E-Paper

মমতার বিশেষ বৈঠক, স্থির হবে দলের কাঠামো

দলের অন্দরে যখনই টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে তখনই তা সামাল দিতে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন মমতা। তবে এ বারের বিধানসভা ভোটে পরাজয় এবং তা ঘিরে গভীর সঙ্কটে পড়েছে তৃণমূল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ০৬:২৩
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

বিদ্রোহের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের রাশ ফেরাতে তৎপর হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য স্তরে দলের সব কমিটি ভেঙে দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংগঠন পরিচালনার রূপরেখা স্থির করতে বাছাই করা শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে ডাকলেন তিনি। আজ শুক্রবার বিকেলে কালীঘাটের ওই বৈঠকে রাজ্যে তো বটেই সংসদে দলের আগামী কর্মপদ্ধতি নিয়েও নিজের পরিকল্পনা জানাতে পারেন তিনি।

দলের অন্দরে যখনই টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে তখনই তা সামাল দিতে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন মমতা। তবে এ বারের বিধানসভা ভোটে পরাজয় এবং তা ঘিরে গভীর সঙ্কটে পড়েছে তৃণমূল। দলত্যাগ, কাদা ছোড়াছুড়ি ও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার হুড়োহুড়িতে গোটা রাজ্যে সাংগঠনিক কাঠামো নড়ে গিয়েছে। জেলায় জেলায় পুলিশি অভিযান আর গ্রেফতারির মধ্যে নেতৃত্বের সঙ্গে পদাধিকারীদের ন্যূনতম যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় সাংগঠনিক কাঠামো বদলে দেওয়ার ভাবনা শুরু হয়েছে তৃণমূলের শীর্ষে। সেক্ষেত্রে নতুন কাঠামোর কথাও বিবেচনায় রয়েছে দলীয় নেতৃত্বের। এ সবই এই বৈঠকে চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এক্ষেত্রে সর্বভারতীয় কাঠামো ও তার সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও নির্দিষ্ট করা হতে পারে।

এ দিকে, বিধানসভায় পরিষদীয় দল ‘হাতছাড়া’ হওয়ার ঘটনা নিয়েও দলীয় স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে বলা হয়েছে, তৃণমূল প্রার্থীরা চূড়ান্ত প্রতিকূলতার মধ্যে দলের প্রতীকে জয়ী হয়েছেন। এই অবস্থায় তাঁদের পরবর্তী কাজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়েও এই বৈঠকে আলোচনা হবে। বুধবারের ওই ধাক্কার পরদিন বৃহস্পতিবারই ‘আলাদা’ হয়ে যাওয়া অংশের দু’একজন বিধায়ক মমতা ও তৃণমূলের প্রতি প্রকাশ্যে যে আস্থা দেখিয়েছেন, তাকে ইতিবাচক মনে করে এগোতে চাইছে কালীঘাট। বিধানসভার স্বীকৃত বিরোধী দলের একাধিক বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে মমতার তরফে। দলের মতে, বড় সংখ্যক সংখ্যালঘু বিধায়ক ‘আলাদা’ হয়ে গেলেও তাঁদের কাছে বিজেপি- ঘনিষ্ঠতার প্রচার নেতিবাচক। সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই মমতা পরবর্তী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করবেন এই বৈঠকে।

এ দিকে, তৃণমূল যে সব আইনি প্রশ্ন তুলেছে এ দিন তা খারিজ করে দিয়েছেন রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। রাজ্য বিধানসভার কাজকর্ম ডিজিটাইজড করার কাজে কেন্দ্রের ন্যাশনাল ই-বিধান অ্যাপ্লিকেশন বা (নেভা)-এর সঙ্গে যুক্ত হতে দিল্লি এসেছেন তিনি। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে কেন বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়া হল, তৃণমূলের এই প্রশ্ন উড়িয়ে তিনি বলেন, ‘‘যা হয়েছে তা আইন মেনেই হয়েছে। কম বা বেশি কিছু করা হয়নি।’’ সেই সঙ্গেই তৃণমূলের চিঠি বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব করে গোড়ায় যে প্রস্তাব এসেছিল, তাতে একাধিক খামতি ছিল।’’ তা অগ্রাহ্য করা হয়েছে।

তৃণমূলের প্রশ্ন, দল থেকে যে নেতাকে বহিষ্কৃত করা হয়েছিল, সেই নেতাই কী ভাবে বিরোধী দলনেতা হন? স্পিকারের জবাব, ‘‘দল থেকে বহিষ্কারের একটি নিয়ম থাকে। বহিষ্কার করতে গেলে আগে সেই ব্যক্তিকে ‘কারণ দর্শাও’ নোটিস দিতে হয়। যা এ ক্ষেত্রে হয়নি। ঋতব্রতদের পিছনে যথেষ্ট সংখ্যক বিধায়কদের সমর্থন ছিল। তাই ওঁদের দাবি মেনে নেওয়া হয়।’’ সূত্রের মতে, বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তৃণমূল। রথীন্দ্র বলেন, ‘‘যা হয়েছে তা আইন মেনেই হয়েছে।’’ তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা বলেন, ‘‘বিরোধী দলের স্বীকৃতি নিয়ে যা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। আদালতে তা প্রমাণ হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mamata Banerjee TMC tmc meeting

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy