E-Paper

বসিরহাটে কংগ্রেসের সমর্থন পাবে, আশা তৃণমূলের

তৃণমূল শিবিরের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জাতীয় স্তরের কংগ্রেস নিজ নিজ রাজনীতির যে পর্বে দাঁড়িয়ে, তা পরিপূরক। মমতার প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাওয়া। কংগ্রেসের সামনে তৃণমূল নেত্রীকে নরম মাটিতে পেয়ে দর কষাকষি করার সুযোগ রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ০৬:৫৬
(বাঁ দিকে) রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের বৈঠকের দিন যত এগিয়ে আসছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্ত এই মর্মে সরব হচ্ছে যে, কংগ্রেস এবং তৃণমূলের ‘নতুন রাজনৈতিক ভাষ্যের’ সূচনা হবে ওই দিন। দাবি, শুধু জাতীয় রাজনীতিতেই নয়, রাজ্যে রাজ্যে তার প্রতিফলন ঘটবে এবং আগামী লোকসভা ভোটে বিজেপি-কে উৎখাত করতে এই সক্রিয়তা মোক্ষম অস্ত্র হবে। পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেসের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। একটি মত হল, বসিরহাট লোকসভার উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হয়ে কংগ্রেসের সমর্থন চাইলে তার বিনিময়ে কংগ্রেস নন্দীগ্রাম বা রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূলের সমর্থনে লড়তে পারে। অন্য মত হল, রাজ্যে এখন তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর অর্থ তৃণমূলের কালিমা কংগ্রেসের গায়ে মাখা।

তৃণমূল শিবিরের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জাতীয় স্তরের কংগ্রেস নিজ নিজ রাজনীতির যে পর্বে দাঁড়িয়ে, তা পরিপূরক। মমতার প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাওয়া। কংগ্রেসের সামনে তৃণমূল নেত্রীকে নরম মাটিতে পেয়ে দর কষাকষি করার সুযোগ রয়েছে। তৃণমূল সূত্রের দাবি, কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে মমতাকে বলা হয়েছে তিনি বসিরহাটের মতো লোকসভার আসন থেকে উপনির্বাচনে জিতে দিল্লি আসুন। ২০২৯-এর নির্বাচনের আগে তাঁকে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের প্রয়োজন। প্রয়োজনে সিপিএমের সঙ্গেও কথা বলে মমতাকে ওই আসনে লড়তে এবং সংখ্যালঘু ভোটকে এক মঞ্চে রাখতে সহায়তা করা হতে পারে— কংগ্রেসের তরফে এমন ইঙ্গিতও করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তবে এই নিয়ে তৃণমূল নেত্রী এখনও সিদ্ধান্ত নেননি বলেই খবর।

এই প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের অন্দরমহল বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ইন্ডিয়া’য় ২০২৩ থেকে ছিলেন। তিনি কেন ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের চেষ্টা করেননি? এখন প্রয়োজনটা ওঁর। তিনি বসিরহাট থেকে জিতে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন। বিনিময়ে তিনি কি কংগ্রেসকে বিধানসভা উপনির্বাচনে সাহায্য করবেন! কংগ্রেসের ভিতরে আরেকটি মত হল, তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনরোষ কংগ্রেসের নিজের ঘাড়ে নেওয়া উচিত নয়।

কংগ্রেস সূত্রের বক্তব্য, রাহুল গান্ধী দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সম্প্রতি জানিয়েছেন, ‘এত দিন আমরা যে ভোট চুরি নিয়ে কথা বলছিলাম, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করছিলেন না। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর উনি আমাদের পাশে থাকবেন।’ রাহুলের বরাবরের নীতি, দিল্লি থেকে রাজ্য নেতৃত্বের উপরে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না। যে কারণে গত লোকসভা ভোটের সময়েও রাহুল প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বকে তৃণমূলের মাত্র দু’টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব মেনে নিতে বলেননি।

বসিরহাট আসনে ২০২৪-এ তৃণমূল ৫২ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল। সেখানে আইএসএফ ভাল ভোট পেয়েছে। কংগ্রেস, বাম, অতি বাম এবং তৃণমূলের একজোট হওয়া নিয়ে মমতার প্রস্তাব সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব পত্রপাঠ খারিজ করেছেন। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের পরে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিও বলেছেলেন, এটি বিবেচনা করারই প্রশ্ন উঠছে না। কারণ, তৃণমূল এখনও অগণতান্ত্রিক আচরণ করে চলেছে। তৃণমূলের অঙ্ক হল, কংগ্রেস সঙ্গে থাকলে বাম-আইএসএফ আলাদা প্রার্থী দিলেও তৃণমূল জিততে পারে। কারণ সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটেও এই লোকসভার অধীনস্থ ৭টি বিধানসভা আসনের ৫টিতে জিতেছে তৃণমূল।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

INDIA Block Mamata Banerjee Rahul Gandhi TMC Congress

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy