পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির ধাক্কায় জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী। সমস্যা বাড়লে পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে বলে সম্প্রতি হুঁশিয়ারিও দিয়েছে উড়ান সংস্থাগুলি। এই অবস্থায় তাদের সাহায্যে ১০ হাজার কোটি টাকার যে তহবিল গঠনে বুধবার সায় দিয়েছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা, সেটির ব্যবহার নিয়ে বৃহস্পতিবার আর এক দফা ব্যাখ্যা দিল সরকার। জানাল, এই তহবিল ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়। চাইলে উড়ান সংস্থাগুলি বেশি দামে তেল কিনতে পারবে। সেটা করবে নাকি তহবিলের সাহায্য নেবে, সেই সিদ্ধান্ত তাদের, জানিয়েছেন উড়ান পরিবহণ মন্ত্রকের ডিরেক্টর রোহিত রাজ। তিনি জানান, আপাতত ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল তৈরি হয়েছে। সংস্থাগুলি কী ভাবে এর সুবিধা নেয়, তার ভিত্তিতে পরের পদক্ষেপ করা হবে।
রাজ জানান, আপাতত লিটারে এটিএফের সর্বোচ্চ দাম ৮৬.৩২ টাকা স্থির হয়েছে। তার উপর বিভিন্ন শহরের ভিন্ন কর, সারচার্জ, শুল্ক মিলিয়ে এক একটি শহরে এই দামের ঊর্ধবসীমা এক এক রকম। দিল্লিতে তা ১১৫ টাকা, মুম্বইতে ১১৪.৫ টাকা, চেন্নাইতে ১৩৯। কলকাতায় আবার ১৩০ টাকার আশপাশে হতে পারে বলে ইঙ্গিত। আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দাম ১০৪.৪৯ টাকা। সঙ্গে রয়েছে কর এবং মাসুল। উল্লেখ্য, বর্তমানে দিল্লিতে দেশীয় উড়ানের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার এটিএফের দাম ১০৫ টাকার আশপাশে। কলকাতায় তা ১০৯ টাকা।
প্রশাসনের দাবি, এই আপৎকালীন তহবিল আপাতত ৩৬ মাসের জন্য গড়া হয়েছে। উড়ান সংস্থাগুলি সুবিধাটি নিতে আগ্রহী কি না কিংবা কী ভাবে নিচ্ছে নজর রাখা হবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ দামের বেশি টাকা উড়ান সংস্থা দিতে না চাইলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির যে লোকসান হবে, ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল মারফত সেটাই পূরণ করবে কেন্দ্র।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)