মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে এ বার পুলিশের দ্বারস্থ হল একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। বৃহস্পতিবার ‘অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা’ নামের ওই সংগঠনের তরফে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ জানানো হয়েছে। তৃণমূলনেত্রীর বিরুদ্ধে আইন মেনে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করার আর্জিও জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রসঙ্গত, এর আগে এই ঘটনায় রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় সিংহ নামে এক আইনজীবী শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় মমতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
সংগঠনটির রাজ্য সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামী লালবাজার সাইবার ক্রাইম শাখার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিককে লেখা চিঠিতে দাবি করেছেন, গত মঙ্গলবার জুন ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেল থেকে মমতা যে মন্তব্য করেছিলেন, তার জন্য বিশ্বে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তৃণমূল নেত্রীর ওই মন্তব্যের জন্য পশ্চমবঙ্গ এবং ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে বলেও আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন চন্দ্রচূড়।
‘অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা’-র আরও অভিযোগ যে, মমতার ওই বিতর্কিত মন্তব্য ‘দেশদ্রোহিতার’ শামিল। এই মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয়ের আবহ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়। এই সূত্রেই দেশের গরিমা এবং নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে মমতার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করার জন্য পুলিশের কাছে আর্জি জানিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটি।
কী বলেছিলেন মমতা?
ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসে মমতা বলেছিলেন, ‘‘বাংলাদেশের একটা বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল, জেনে রাখুন। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভোলিউলেশন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার বলার অধিকার নেই।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘কিন্তু আমি যেটা বলছি, সেই পয়েন্টটা হল, তার পরে তারা মেঘালয় হয়ে বাংলায় চলে আসে। বাংলায় যখন চলে আসে, তখন আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে। এটা তাদের (এসটিএফ) ক্রেডিট। তার পরে হোম মিনিস্টার (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ) নিজে আমাকে ফোন করে বলছেন। এত দিন তো বলিনি। মুখ খুলিনি। এখন অত্যাচারের শেষ সীমায় গিয়েছে বলে... আমি নাম বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে। আমি সেটা চাই না। আমি দেশকে ভালবাসি।’’
সেই সময় অনেকেই ধর্নাস্থলে বসে সেই নাম প্রকাশ করার দাবি তোলেন। মমতা বলেন, ‘‘না বলব না দেশের স্বার্থে। (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) কী বললেন? ‘আপনি বাংলার পুলিশকে বলে দিন, এই কথা যাতে বাইরে না-বলে। এটা দেশের জন্য।’ কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজ সরকার বদলালেও মনে রাখবেন আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয় কথা ভান্ডার, তথ্য ভান্ডার, সত্য ভান্ডার। সম্পদের ভয়ে কর্মীদের ভাসিয়ে দল ছেড়ে যাব না।’’
মমতা কারও নাম না-নিলেও মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশের ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত ছিল তাঁর। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন ছিল। তার আগে, গত বছর ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় হাদিকে গুলি করা হয়। পরে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই হত্যায় অভিযুক্তদের ভারতীয় পুলিশ গ্রেফতার করে। বনগাঁ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফের হাতে তাঁরা ধরা পড়েছিলেন। ধৃতেরা হলেন ৩৭ বছরের ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং ৩৪ বছরের আলমগীর হোসেন। ফয়সাল পটুয়াখালি এবং আলমগীর ঢাকার বাসিন্দা। গত ৭ মার্চ গভীর রাতে বনগাঁর সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগ, বনগাঁ হয়ে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টায় ছিলেন। এর পরেই বাংলাদেশে কেউ কেউ এই নিয়ে সরব হন। তবে সে দেশের তারেক রহমানের বিএনপি সরকার বা বিরোধী দলের তরফে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।