মঞ্চাভিনেত্রী হিসাবেই মূলত পরিচিত তিনি। মূকাভিনেত্রী হিসেবেও শহরে তাঁর খুবই নামডাক। তিনি মধুরিমা গোস্বামী। তাঁর অবশ্য আরও একটা পরিচয় রয়েছে। মূকাভিনয় শিল্পী নিরঞ্জন গোস্বামীর কন্যা এবং অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের স্ত্রী। মঞ্চ থেকে এ বার তিনি ছোটপর্দায়। কেন এই সিদ্ধান্ত মধুরিমার?
সদ্য শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’। এই কাহিনিতে নায়কের মায়ের চরিত্রে দেখা যাচ্ছে মধুরিমাকে। ছোটপর্দায় অভিনয়ের প্রসঙ্গে মধুরিমা বললেন, “এ রকম ব্যাপার নয় কিন্তু ওঁরা আমাকে আগে অনেক বার বলেছিলেন। তখন না করেছিলাম। আসলে অনেকের ধারণা ছিল যে আমি হয়তো ধারাবাহিকে কাজ করতে আগ্রহী নই। আসলে আমারও যে খুব আকর্ষণীয় লেগেছিল তা নয়।” অল্পবিস্তর বড়পর্দায় কাজ করেছেন মধুরিমা।
ছোটপর্দা হোক বা বড়পর্দা— শুটিংয়ে ধৈর্য ধরে বসে থাকা শিল্পীদের কাজের অংশ হয়ে গিয়েছে। হয়তো সকালে কলটাইম। এ দিকে শট নেওয়া হল রাতে। এমনটা মাঝে মাঝেই হয় তারকাদের সঙ্গে। মধুরিমা নিজেও সে কথা কিছুটা জানেন। তাই খুব বেশি এই মাধ্যম তাঁকে কখনও আকর্ষণ করেছে তা নয়। তিনি যোগ করেন, “চ্যানেলের তরফে এক জন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমিও প্রযোজনা সংস্থার বিষয়ে ভাল করে খোঁজখবর নিয়েছিলাম। ভাল কথা শুনে রাজি হলাম। আর অভিনেতাদের সবসময়ই নতুন কাজের প্রতি লোভ থাকে।”
আরও পড়ুন:
তবে ক্যামেরার সামনে অভিনয় যে শুধু শিল্পীসত্তাকে তৃপ্ত করে তা নয়। আর্থিক স্বচ্ছলতাও এনে দেয়। এ কথা মন থেকে বিশ্বাস করেন মধুরিমা। তিনি বললেন, “মঞ্চে অভিনয় করলে প্রতি দিনে অন্নসংস্থানে কোনও সমস্যা হয় না ঠিকই। তবে সৎপথে মঞ্চে অভিনয় করলে বা শুধুই থিয়েটার করলে জীবনে সঞ্চয় করা খুব কঠিন। সেই স্বচ্ছলতা দেয় এই মাধ্যমগুলো।”
ধারাবাহিকে অভিনয় শুরুর আগে কি স্বামী অনির্বাণের সঙ্গে কোনও কথা হয়েছে তাঁর? মধুরিমা বলেন, “জানে আমি ধারাবাহিকে অভিনয় করছি। ফোন করে জানিয়েছি। আর ও (অনির্বাণ) তো ক্যামেরার সামনে আমার থেকে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। আলোচনা করেছি কী করা উচিত না উচিত। অনির্বাণও যে অনেক বেশি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছে তা নয়, কিন্তু ধারণা রয়েছে। তাই আলোচনা তো হয়েছেই।” এর পরে আগামী দিনেও কি মধুরিমাকে পুরোদমে ধারাবাহিকে অভিনয় করতে দেখা যাবে? সেই উত্তর অবশ্য অধরা।