তৃণমূল কংগ্রেসে ‘গৃহদাহে’র আবহে সে দলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের গতিপ্রকৃতি নিয়ে নানা জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে অব্যাহত। এমন পরিস্থিতিতে ‘ভণ্ড বন্ধু’দের বিষয়ে বঙ্গ বিজেপিকে সতর্কবার্তা শোনালেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর এই সতর্কবার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ। যদিও দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যা বলেছেন, আদতে তিনি সেটাই বলতে চেয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্বপন।
স্বপন বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘তৃণমূলের আত্ম-ধ্বংস নিয়ে আমার চোখে জল নেই। আমার একমাত্র আশা, দুর্বৃত্তদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিকে কলুষিত না-করে। বিজেপিতে আমাদের সর্বদা সেই সব ভণ্ড বন্ধুদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যাঁরা আজ তাঁদের অতীতের পাপ মোচনের জন্য আমাদের সঙ্গে সখ্য গড়ার চেষ্টা করছেন। বাংলার রাজনীতিকে পরিশুদ্ধ করার কাজ অসম্পূর্ণ রাখা যাবে না।’
কিন্তু এমন এক সময়ে আচমকা দলকে কেন সতর্কবার্তা শোনালেন বর্ষীয়ান নেতা, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের পর্যবেক্ষণ, ‘নতুন তৃণমূল’ বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রেখে চলার চেষ্টা করতে পারে। আবার, জনরোষ থেকে নিজেদের আলাদা রাখতে ‘নতুন তৃণমূলে’র মঞ্চ ব্যবহার করে তৃণমূলের থেকেও দূরত্ব রাখার কৌশল নিতে পারেন সংশ্লিষ্ট লোকজন। এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে তাঁদের একটা অংশের জন্য বিজেপির দরজা খুলে যেতে পারে বলে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের একটি মন্তব্য থেকে জল্পনা ছড়িয়েছিল। যদিও শমীক স্পষ্ট বলেছেন, “(তৃণমূলের) বিধায়ক, সাংসদ, পুর-প্রতিনিধিদের অনেকের বিবেক জাগ্রত হওয়ায় পদত্যাগ করছেন। অনেক নেতা আবার দল ছাড়তে চাইছেন। আমাকে অনেকেই ফোন করেছেন। বলেছি, সম্ভব নয়।” শমীকের সংযোজন, “ওঁদের ব্যবসা, বিনিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল তৃণমূলের লোকজনই আমাদের পাঠাচ্ছেন। ফলে তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধই।”
এই পরিস্থিতিতে শমীক-কথা স্মরণে রেখেই স্বপন নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেছেন, “রাজ্য সভাপতি তাঁর ভাষায় যা বলেছেন, আমি সেটাই নিজের ভাষায় বলেছি।” স্বপনের সংযোজন, “অনেকে এখন ন্যাকামি করছেন। প্রশাসনিক বৈঠকে যাচ্ছেন। ভাল সাজছেন। নিজেদের অপকর্ম ভোলাতে চাইছেন। এঁদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তৃণমূল নিজেরা যা পারে করুক। আমরা যেন অতিউৎসাহী হয়ে ওঁদের নিয়ে নাক না-গলাই।” এই সূত্র ধরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্যের আরও এক মন্ত্রী বলেছেন, “এখন সবাই ‘ভাল তৃণমূল’ হতে চাইছেন। প্রশাসনিক বৈঠকে কে কার পাশে বসবেন, তা নিয়ে মারপিট করছেন!”
প্রসঙ্গত, বিদ্রোহী তৃণমূলের পরিষদীয় দলের অন্যতম উপ-নেতা সন্দীপন সাহার বাড়ির সামনে এ দিনই বিজেপি নেত্রী প্রিয়ঙ্কা টিব্রেওয়ালের নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)