পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্টেশন চত্বরে ‘অবৈধ’ অভিযোগে রেল যে হকার উচ্ছেদ চালাচ্ছে, তা বন্ধের দাবিতে এ বার কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে লিখিত আর্জি জানালেন রাজস্থানের সিপিএম সাংসদ অমরা রাম এবং বিহারের সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন সাংসদ তথা সংসদের রেলওয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সুদামা প্রসাদ। অব্যাহত রয়েছে পথের প্রতিবাদও।
রেলমন্ত্রীকে অমরা বলেছেন, ‘কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না-করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রামীণ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রুটি-রুজি সঙ্কটে।’ সিপিএম সাংসদ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদীর সরকার দেশের সব শহরে বসবাসের জায়গাতেই পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজ্যে তা দেখা যাচ্ছে না। লিবারেশন সাংসদ সুদামাও বলেছেন, ‘পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনা ছাড়াই স্বেচ্ছাচারী ও অমানবিক ভাবে উচ্ছেদ অভিযান চলছে।’ স্বচ্ছ পুনর্বাসন নীতি প্রণয়ন না-হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ, হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়ারর মতো নানা দাবি তুলেছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি বিধায়ক অবশ্য বলেছেন, “হকার মানে যিনি ঘুরে ঘুরে ফেরি করেন। তা হলে তাঁরা কেন অনৈতিক ভাবে জায়গা দখল করে বসবেন? এখন পুনর্বাসনের কথা বলা হচ্ছে। অথচ, এমনও দৃষ্টান্ত আছে যে, পুনর্বাসনের জায়গা বিক্রি করে আবার পুরনো জায়গায় ফিরে এসেছেন।”
অব্যাহত রয়েছে পথের প্রতিবাদও। রেল উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ স্টেশনে বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ হবে বলে জানিয়েছিল। এর বিরুদ্ধে সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটুর নেতৃত্বে প্রতিবাদ জানান হকারেরা। সিটু নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ২৯ তারিখ পর্যন্ত আলোচনার জন্য রেলের কাছে সময় চাওয়া হয়েছে। হকার উচ্ছেদ, স্মার্ট মিটারের বিরুদ্ধে, সম্প্রীতি রক্ষার ডাক দিয়ে বারাসতে বিভিন্ন বাম দলের ডাকে হয়েছে প্রতিবাদ মিছিল। ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-সহ অন্যেরা। পাশাপাশি, একই বিষয়ে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ প্রসাদের নেতৃত্বেও হয়েছে প্রতিবাদ মিছিল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)