প্রত্যেকেই বিদেশি নাগরিক। বেশির ভাগই বাংলাদেশি। অথচ তাঁদের বেশির ভাগেই ভোটার কার্ড হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ঠিকানায়। এমন ১৪ জনের নামের তালিকা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরে পাঠাল আঞ্চলিক বৈদেশিক পঞ্জিকরণ কার্যালয় (ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস)। তাঁদের ভোটার কার্ড বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এই ১৪ জনের ভোটার কার্ডে ঠিকানা রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়, কারও ঠিকানা নদিয়া, আবার কারও ঠিকানা রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে। যেমন রথীন্দ্রনাথ মালাকার নামে জনৈক এক প্রৌঢ়কে চিহ্নিত করেছে বৈদেশিক পঞ্জিকরণ কার্যালয়। তাঁর বাংলাদেশের পাসপোর্ট রয়েছে। আবার ভারতের ভোটার কার্ডও রয়েছে। রথীন্দ্রের স্ত্রীরও রয়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং ভারতীয় ভোটার কার্ড। রথীন্দ্রের আধার কার্ডও রয়েছে। জানা যাচ্ছে, রথীন্দ্র দাবি করেছেন তাঁর পুত্র এবং পুত্রবধূ স্থায়ী ভাবে ভারতে বাস করেন। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় থাকেন তাঁরা। ভারতে এসে ভুয়ো নথি বানিয়ে ফেলেছেন প্রৌঢ় এবং তাঁর স্ত্রীও।
আবার উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার ঠিকানায় ভোটার কার্ড বানিয়ে ফেলেছেন সোমেশচন্দ্র জোদ্দার। সোমেশের স্ত্রীও বানিয়ে নিয়েছেন ভারতীয় নথি। অথচ দু’জনেই বাংলাদেশি নাগরিক। সুষমা মেডিক্যাল ভিসায় ভারতে আসেন। সোমেশ আসেন পর্যটক ভিসায়। এ দেশে আসার পরে ভারতীয় নথি বানিয়ে ফেলেছেন দু’জনেই।
একই রকম ভাবে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের ঠিকানায় ভুয়ো ভোটার কার্ড বানিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে জনৈক আকাশ রায়ের বিরুদ্ধে। জানা যাচ্ছে তাঁর কাছে ইটালির পাসপোর্ট রয়েছে। আকাশের পরিবারের আরও পাঁচ সদস্যকেও চিহ্নিত করেছে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস। দাবি করা হচ্ছে, তাঁরা প্রত্যেকেই বিদেশি নাগরিক। কারও কাছে ইতালির, তো কারও কাছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট রয়েছে। ওই ছয় সদস্যের পরিবারেরও অনেকেই ভারতের ভুয়ো ভোটার কার্ড বানিয়ে নিয়েছেন। এমনকি আকাশের স্ত্রী শান্তনার নামের পদবিও ভুয়ো ভোটার কার্ডে বদলে গিয়েছে বলে দাবি আধিকারিকদের।
নদিয়ার কল্যাণীর ঠিকানায় ভারতীয় নথি বানিয়ে ফেলেছেন চিনোরানি মণ্ডল এবং তাঁর স্বামী ক্ষীতিশ মণ্ডল। তাঁরাও বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করা হচ্ছে। মেডিক্যাল ভিসায় ভারতে এসে এ দেশে থাকতে শুরু করেন। দম্পতির শুধু ভোটার কার্ডই নয়, আধার কার্ডও রয়েছে। এমনকি প্যান কার্ডও বানিয়ে ফেলেছেন চিনোরানি। এমন ১৪ জন সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিককে চিহ্নিত করে সেই তালিকা সিইও দফতরে পাঠিয়েছে আঞ্চলিক বৈদেশিক পঞ্জিকরণ কার্যালয়।