E-Paper

অভীকদের ঢাল-নির্দেশিকার কথা জানানো হল মুখ্যমন্ত্রীকে

সংগঠনের তরফে কৌশিক চাকীর কথায়, ‘‘আমাদের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল তদন্তের দায়িত্বে থাকা সীমা পাহুজাকে বিষয়টি জানিয়েছিল। লাভ হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর প্রতিনিধি মারফত শুভেন্দু অধিকারীকে সব জানানো হয়েছে।’’

পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০৯:২৬
আসল নির্দেশিকা, যা পরে গায়েব হয়ে যায় (বাঁ দিকে)। পরবর্তী বিতর্কিত নির্দেশিকা (ডান দিকে)।

আসল নির্দেশিকা, যা পরে গায়েব হয়ে যায় (বাঁ দিকে)। পরবর্তী বিতর্কিত নির্দেশিকা (ডান দিকে)। — নিজস্ব চিত্র।

দু’জন ‘পড়ুয়া-চিকিৎসক’ বা পিজিটি এবং এক জন রেসিডেন্ট ডাক্তারকে (আরএমও) স্বাস্থ্য আধিকারিক হিসাবে দেখিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর একটি বিতর্কিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল আর জি করে ধর্ষণ-খুনের ঠিক পরে। ওই ঘটনায় হাইকোর্ট নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরেই চিকিৎসকদের সংগঠন ‘জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টর্স ফোরাম’ সেই নির্দেশিকার বিষয়টি জানিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দফতরকে।

সংগঠনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৯ থেকে ১৫ অগস্ট ভোরবেলা স্বাস্থ্য দফতরের দুই পিজিটি ও এক আরএমও রেড রোডে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজের ডিউটিতে ছিলেন বলে খাতায়কলমে দেখাতেই ওই নির্দেশিকা জারি হয়েছিল, যাতে তাঁরা ওই সময় আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে ছিলেন, এমন তথ্য খণ্ডন করা যায়। সংগঠনের আরও অভিযোগ, স্বাস্থ্যভবনের পূর্ববর্তী একটি নির্দেশিকা রাতারাতি ওয়েবসাইট থেকে গায়েব করে দিয়ে ‘ব্যাক ডেট’-এ এই নির্দেশিকা জারি করেছিল পূর্বতন সরকার।

সংগঠনের তরফে কৌশিক চাকীর কথায়, ‘‘আমাদের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল তদন্তের দায়িত্বে থাকা সীমা পাহুজাকে বিষয়টি জানিয়েছিল। লাভ হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর প্রতিনিধি মারফত শুভেন্দু অধিকারীকে সব জানানো হয়েছে।’’ চিকিৎসক-বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁয়ের কথায়, ‘‘অভয়া কাণ্ডে তৃণমূল সরকার যে সব তথ্য ধামাচাপা দিয়েছে, বর্তমান সরকার তা খুঁড়ে বার করবে।’’

অভিযোগ, ৮ অগস্ট, ২০২৪ তারিখে স্বাস্থ্য দফতর একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল(মেমো নম্বর—২৩৪৪/এইচএএফ/ও/জিএ/ডব্লিউ-৮৫/২০২২)। তাতে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ ও তার মহড়ার তত্বাবধান সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সেই সময় স্বাস্থ্যভবনে থাকা দুই স্বাস্থ্যকর্তা সৌমাভ দত্ত, সুজয় বিষ্ণু এবং চার মেডিক্যাল অফিসারকে। ৯, ১০, ১৩ এবং ১৫ অগস্ট ভোরে তাঁদের ওই ডিউটি ছিল। কিন্তু পড়ুয়া-চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের পর এই নির্দেশিকা আচমকা স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইট থেকে গায়েব হয়ে যায়। সেই জায়গায় ৬ অগস্ট ২০২৪ এর একটি নির্দেশিকা পোস্ট হয় (মেমো নম্বর—এম/২০০৭)।

ওই নির্দেশিকায় দুই পিজিটি ও এক আরএমও-র নাম উল্লেখ হয়। তাঁদের ৯ অগস্ট ভোরে আরজিকর হাসপাতালে রিপোর্ট করে সেখান থেকে এসএসকেএমে ও তারপর রেড রোডে ডিউটিতে আসতে বলা হয়। নির্দেশিকায় সই ছিল তৎকালীন স্বাস্থ্য অধিকর্তা সিদ্ধার্থ নিয়োগী এবং তৎকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা কৌস্তভ নায়েকের।

সংশ্লিষ্ট দুই পিজিটি ছিলেন সরকারি হাসপাতালে হুমকি কাণ্ডের জন্য কুখ্যাত অভীক দে, উত্তরবঙ্গ লবির প্রভাবশালী নেতা সুশান্ত রায়ের ছেলে সৌত্রিক রায় এবং সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরএমও সৌরভ পাল। এঁদের মধ্যে অভীককে চিকিৎসকের মৃত্যুর ঠিক পরে ৯ অগস্ট ভোরে লাল শার্ট পরে আরজি করের সেমিনার রুমে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ। সৌরভও ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিদ্ধার্থ নিয়োগী বলেন, ‘‘অনেক দিন আগের কথা। আমার কিছু মনে নেই। ডিএমই বলেছিলেন বলে সই করেছি।’’ আর তৎকালীন ডিএমই বা স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা কৌস্তভ নিয়োগীর ফোন বন্ধ ছিল। এ ব্যাপারে সৌরভ পালকে ফোন করা হলে তিনি প্রথমে, ‘‘হ্যাঁ বলছি’’ বলে শুরু করেন। তারপর সংবাদপত্র শুনেই দাবি করেন, তিনি সৌরভ পাল নন। অভীক দে-র ফোন নেটওয়ার্ক সীমার বাইরে ছিল। আর সৌত্রিক রায় ‘‘ব্যস্ত আছি’’ বলে ফোন কেটে দেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Threat Culture Avik Dey

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy