রাজ্য সরকারি কর্মীদের চাকরি সংক্রান্ত মামলা শোনার জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ট্রাইবুন্যাল আছে। কিন্তু সেই ট্রাইবুন্যালে বিচারপতি-ই নেই! তার ফলে গত কয়েক মাস ধরে কার্যত শুনানি বন্ধ রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইবুন্যালে (স্যাট)। কবে ফের শুনানি শুরু হবে, সে বিষয়েও কোনও স্পষ্ট উত্তর মিলছে না। বিচারপতির অভাবে স্যাটের শুনানি বন্ধ থাকা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টেও মামলা হয়েছে। সেই মামলারও ফয়সালা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আইনজীবীদের অনেকেই বলছেন যে, মামলা দায়ের হলেও সেগুলি ঝুলেই থাকছে। পিছিয়ে যাচ্ছে বহু শুনানি। মামলার পাহাড় জমছে।
মামলাকারীদের পাশাপাশি আতান্তরে আইনজীবী এবং মুহুরিরাও। স্যাট-এ কর্মরত এক ল ক্লার্কের বক্তব্য, মামলা না-হওয়ায় আয়ের পথ সঙ্কুচিত হয়েছে। অনেকেই সংসার চালাতে নাকাল হচ্ছেন। কবে সব স্বাভাবিক হবে, সেই আশায় দিন গুনছেন তাঁরাও।
স্যাট বন্ধ থাকায় বহু মামলাই সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টে আসছে। কিন্তু কোন পরিস্থিতিতে স্যাট-এর বদলে হাই কোর্ট সরাসরি মামলা শুনতে পারে, সেই আইনি প্রসঙ্গেও দীর্ঘ সওয়াল-জবাব চলছে। সেখানেও মামলা দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে আইনজীবীদের একাংশের দাবি। তাঁদের বক্তব্য, মামলার মূল বিষয়ে ঢোকার আগে হাই কোর্ট সরাসরি এই মামলা শুনতে পারে কি না, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে।
স্যাট সূত্রের খবর, ট্রাইবুন্যালের এক-একটি বেঞ্চে দু’জন করে সদস্য থাকেন। এক জন বিচারবিভাগীয় সদস্য (প্রাক্তন বিচারক বা বিচারপতি) এবং অন্য জন প্রশাসনিক সদস্য (আইএএস সমতুল অবসরপ্রাপ্ত সরকারি অফিসার)। ২০২২ সালের অগস্ট মাস থেকে স্যাট-এ কোনও বিচারবিভাগীয় সদস্য বা জুডিশিয়াল মেম্বার নেই। প্রশাসনিক সদস্য হিসেবে রাজ্যের প্রাক্তন আইএএস অফিসার সৈয়দ আহমেদ বাবা ছিলেন। তখনও এক বার শুনানি থমকে গিয়েছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, এক জন সদস্য থাকলেও সরকারি কর্মীদের মামলা শুনতে হবে। তার পরে প্রশাসনিক সদস্য কিছু মামলা শোনেন। গত সেপ্টেম্বরে প্রশাসনিক সদস্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে কাজকর্ম স্থগিত হয়ে গিয়েছে।
স্যাট-এ সদস্য নিয়োগে কেন গড়িমসি, তার একটি সম্ভাব্য কারণও চর্চায় উঠে এসেছে। আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত বলছেন, ট্রাইবুন্যাল কী ভাবে গঠিত হবে এবং সদস্য নির্বাচনে কী কমিটি তৈরি হবে, সে ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের রায় আছে। সেই রায় অনুযায়ী, রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইবুন্যালের সদস্য নির্বাচনের কমিটিতে রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধি থাকবেন না। কারণ, স্যাটে বিবাদী পক্ষ রাজ্যই। প্রশাসনের খবর, সেই কমিটি গঠনে এখনও বিশেষ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)