পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে হুগলির ঐতিহাসিক ইমামবাড়ার সংস্কারে টাকা বরাদ্দ করল রাজ্য।
জেলাপ্রশাসন এবং ইমামবাড়া কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ঐতিহাসিক দ্রষ্টব্যগুলির মধ্যে ইমামবাড়া অন্যতম। ১৮৪০ সালে এর নির্মাণ শুরু হয়। প্রায় ২০ বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলার পর ১৮৬০ সালে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। এর পর বিভিন্ন সময়ে অল্প বিস্তর সংস্কার হলেও পুরোদস্তুর সংস্কার হয়নি। ফলে ক্রমশই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছিল ইমামবাড়া। ভবনের সংস্কারে যে বিশাল অঙ্কের টাকার প্রয়োজন ছিল তা ইমামবাড়া কর্তৃপক্ষের পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল না। উপায় না দেখে কর্তৃপক্ষ দর্শনের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তাতেও প্রয়োজনীয় অর্থ সঙ্কুলান না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হন তাঁরা। স্থানীয় বিধায়কের তৎপরতায় সংস্কারের জন্য রাজ্য ৮৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। সংস্কারের প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও শীঘ্রই শুরু হবে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।
শুধু সংস্কার নয়, ইমামবাড়াকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করতে নানা পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দূর থেকে আসা পর্যটকদের সাময়িক থাকার জন্য একটি মুশাফিরখানা এবং সেইসঙ্গে অনুষ্ঠানের জন্য একটি হলঘর তৈরি করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজ্যের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হাসমত আলি বলেন, ‘‘হুগলির ইমামবাড়ার ঐতিহ্য রয়েছে। বিশাল এই ভবন হেরিটেজ ভবনের স্বীকৃতি পেয়েছে। এর পূর্ণ সংস্কার করে একটা পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’’
হুগলি-চুঁচুড়ার পুরপ্রধান গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ইমামবাড়ার পূর্ণ সংস্কারের মাধ্যমে একটা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা হচ্ছে। সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা পূর্ত দফতরকে। সংস্কার ছাড়াও বিপণন কেন্দ্র ও দর্শকদের থাকার জন্য মুসাফিরখানা তৈরির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে জেলাপ্রশাসনের কাছে।’’ চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, ‘‘ইমামবাড়ার ঐতিহ্যকে বজায় রাখতে সংস্কার করে একে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। কারণ, ইমামবাড়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।’’
রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন ইমামবাড়ায়। সংস্কারের অভাবে ইমামবাড়ার জড়ি দালান, ঘড়ি ঘরের সৌন্দর্য্য নষ্ট হতে বসলেও দর্শকের ভিড় কম হত না। ইমামবাড়া থেকে কয়েক মিটার দূরেই জেলার আর এক দর্শনীয় স্থান ব্যান্ডেল চার্চ। যেখানেও প্রচুর পর্যটক আসে শীতের মরসুমে।
সে সব কথা ভেবেই ইমামবাড়াকে কেন্দ্র করে পর্যটনের প্রসার বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।