তিনি যখন জেলে, তখনই তৃণমূল তাঁকে হুগলি জেলার সভাপতি ঘোষণা করেছিল। জামিন পেয়ে ১৯ দিন পরে জেল থেকে বাড়ি ফিরলেন অসিত মজুমদার। জেল থেকে বেরিয়ে চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক জানালেন, দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করবেন। তাঁর কথায়, ‘‘আগেও দলের সঙ্গে বেইমানি করিনি, আগামী দিনেও করব না।’’
তিন বার বিধায়ক ছিলেন অসিত। ২০২১ সালে তৎকালীন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তার পরেও সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে অসিতকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। তাঁর পরিবর্তে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করেছিল। প্রার্থী ঘোষণার পরেই দলের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অসিত। অভিযোগ করেছিলেন, নেপথ্যে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত রয়েছে। পরে যদিও দলের প্রার্থীর হয়ে প্রচারও বেরিয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপির সুবীর নাগের কাছে ৪৩ হাজার ভোটে পরাজিত হন দেবাংশু।
ভোটের পরে আর দেবাংশুকে তৃণমূল কর্মীদের পাশে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। তবে অসিত মজুমদার দলীয় কর্মীদের পাশে থেকে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোনারপুরে হেনস্থা করার প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন অসিত। গত ৩১ মে তাঁকে গ্রেফতার করে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং ধর্ষণের চেষ্টার মামলা দায়ের হয়।
বৃহস্পতিবার হুগলি জেলা জজ কোর্টে ১০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন পান অসিত। শুক্রবার জেল থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফেরেন। তিনি যখন জেলে, তখন তাঁকে হুগলি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ঘোষণা করে তৃণমূল। জেল থেকে বেরিয়ে অসিত বললেন, ‘‘দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করার চেষ্টা করব। কখনো বেইমানি করিনি, করবও না।’’