E-Paper

বিয়ের আসরে রক্তদানের আয়োজন কনের বাবার

কেন এই উদ্যোগ? মনোজ জানান, তিনি একজন নিয়মিত রক্তদাতা। এ দিনেরটি নিয়ে তিনি মোট ৭৭ বার রক্ত দিয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১০:৪২
আলমপুরে রক্তদান শিবির।

আলমপুরে রক্তদান শিবির। নিজস্ব চিত্র ।

গায়ে হলুদ, আশীর্বাদ, নান্দীমুখ— সবই বিয়ের আচার। ঠিকমতো পালন তো হলই, এর সঙ্গে সাঁকরাইলের আলমপুরের কোলে পরিবার জুড়ে দিল রক্তদান শিবিরও।

বুধবার ওই পরিবারের অন্যতম কর্তা মনোজ কোলের মেয়ে মহিমার বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল রাতে। তার আগে দুপুরে বিয়ের মণ্ডপেই হয়ে গেল রক্তদান শিবির। রক্ত দিলেন মনোজ। গায়ে-হলুদ শেষ করেই রক্তদান শিবিরে হাজির হলেন কনে মহিমাও। তিনি শংসাপত্র তুলে দিলেন রক্তদাতাদের হাতে। বিয়ের আসনে রক্তদান করলেন মোট ১৭ জন। মূলত কোলে পরিবারের সদস্যেরাই রক্তদান করেন। কয়েক জন গ্রামবাসীও রক্ত দেন।

কেন এই উদ্যোগ? মনোজ জানান, তিনি একজন নিয়মিত রক্তদাতা। এ দিনেরটি নিয়ে তিনি মোট ৭৭ বার রক্ত দিয়েছেন। তিনি ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স অ্য়াসোসিয়েশনের হাওড়া জেলা সম্পাদকও। মনোজের কথায়, "রক্তদান মানে জীবনদান। বিয়েরপরে নতুন ভাবে জীবন শুরু করেন দু’জন মানুষ। সে কথা ভেবেইমেয়ের বিয়ের দিনে রক্তদানশিবিরের আয়োজন করেছি।’’

শুধু মনোজ নন, এ দিন রক্ত দেন তাঁর ছেলেও। মেয়ে মহিমা প্যারা-মেডিক্যাল কোর্সে পড়াশোনা করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। তিনিও একাধিকবার রক্ত দিয়েছেন। এ দিন তিনি রক্তদান না করলেও শিবির আয়োজনে তাঁর উৎসাহ কম ছিল না। তিনি বলেন, "চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে আমি পেশাগত ভাবে যুক্ত। রক্তের প্রয়োজনীয়তা বুঝি।’’ মনোজের ভাই সুদীপ কোলে বলেন, "বিয়ের অনুষ্ঠান শুধু আড়ম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। একটা সামাজিক বার্তা দেওয়াও প্রয়োজন।’’

সকাল থেকেই মনোজ ব্যস্ত ছিলেন মেয়ের বিয়ের আচার পালন করতে। গায়ে হলুদ, নান্দীমুখ, আশীর্বাদ পালনের ফাঁকেই দুপুরে ব্যস্ত হয়ে পড়েন রক্তদান শিবিরের আয়োজনে। এই কাজে তাঁকে সহায়তা করছেন পারিবারিক সদস্যেরা এবং ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স অ্যাসোসিয়েশনের স্বেচ্ছাসেবীরা। রক্ত নিতে হাজির ছিলেন উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র মেডিক্যাল কলেজের স্বাস্থ্যকর্মীরা। মহিমার বিয়ে হয়েছে উদয়নারায়ণপুরের গড়ভবানীপুরে। দুপুরেই কনেকে আশীর্বাদ করতে আলমপুরে চলে আসেন পাত্রের বাবা সুকুমার মল্লিক। তিনি বলেন, "বিয়ের আসরে রক্তদান শিবিরের আয়োজন অভিনব। মানুষের পাশে থাকার এই উদ্যোগকে প্রশংসা করতেই হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

sankrail

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy