মকর সংক্রান্তির বিকেলে স্ত্রী-কন্যাকে মোটরবাইকে চাপিয়ে গুজরাতের সুরাতে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন বলাগড় থেকে সেখানে সোনার কাজ করতে যাওয়া এক যুবক। গলায় ঠেকা ঘুড়ির সুতো সরাতে গিয়ে সুরাতের চন্দ্রশেখর আজাদ সেতু থেকে পড়ে মৃত্যু হয় তিন জনেরই। পরিবারের লোকজনের দাবি, নিষিদ্ধ চিনা মাঞ্জার জন্য এই দুর্ঘটনা।
মৃত শেখ রায়হান (৩৪), তাঁর স্ত্রী রেহেনা বিবি (৩৩) এবং তাঁদের মেয়ে আলিশা খাতুন (১০) বলাগড়ের সোমড়া ১ পঞ্চায়েতের বাসিন্দা। শুক্রবার তিন জনের দেহ বাড়িতে পৌঁছয়। তাঁদের আত্মীয়েরা জানান, গত বুধবার বিকেলে রায়হান বাইক নিয়ে সেতুতে উঠতেই চিনা মাঞ্জা গলায় ঠেকলে বাঁ হাত দিয়ে সরাতে গেলে বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারান। বাইকটি সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা মারে। সেখান থেকে প্রায় ৭০ ফুট নীচে পড়েন তিন জনেই। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রায়হান এবং আলিশাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। রেহানার অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় মহাবীর ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মারা যান।
ভাই ফারহান জানান, রায়হান গত ১৫ বছর ধরে সুরাতে সোনার কাজ করতেন। পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকতেন। ফারহানও সুরাতে একই কাজ করেন বছর দশেক ধরে। স্ত্রী-ছেলেকে নিয়ে সেখানেই থাকেন। তিনি বলেন, ‘‘ঘুরতে বেরিয়ে দাদা-বৌদি-ভাইঝি সেতু থেকে ৭০ ফুট নীচে পড়ে। তিন জনেই মাথায় চোট পায়। কান দিয়ে রক্ত বেরোয়। বৌদি একটি অটোর উপরে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মানুষ ওঁদের হাসপাতালে নিয়ে যান।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘অন্যান্য বছর মকর সংক্রান্তির দিন সেতু বন্ধ থাকে। এ বছর কেন খোলা ছিল, ওখানকার প্রশাসনের কাছে সেটাই আমার প্রশ্ন। চিনা মাঞ্জার ব্যবহার বন্ধ হওয়া উচিত।’’
বাবা রহিম শেখ, মা খোদেজা বিবি জানান, সুরাতেই মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত নাতনি আলিসা। পড়াশোনায় ভাল ছিল। কাঁদতে কাঁদতে খোদেজা বলেন, ‘‘দুই ছেলেই সংসার চালাত। এক ছেলে চলে গেল। সঙ্গে বৌমা আর নাতনিও চলে গেল। এ ভাবে চলে যাবে, কোনও দিন ভাবিনি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)