সৌদি আরবের সরকারি তেল পরিশোধন সংস্থা ‘আরামকো’র বৃহত্তম তৈল শোধনাগারে ফের চলল হামলা। এ বারও সেই রাস তানুরা শহরেরই তৈলশোধনাগারে হামলা হয়েছে। রয়টার্স সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে। তবে কে বা কারা হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাস তানুরার এই তৈলশোধনাগারটি হল সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় সরকারি শোধনাগার।
সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানান, রাস তানুরা তৈলশোধনগারে হামলার চেষ্টা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে একটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তবে শোধনাগারের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি বলেই জানাচ্ছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ওই মুখপাত্র। গত সোমবারও সৌদির পূর্ব প্রান্তের এই তৈলশোধনাগারে ড্রোন হামলা হয়েছিল। দু’টি ড্রোন দিয়ে হামলা করা হয়েছিল সেই সময়ে। ইরান থেকে ওই ড্রোনগুলি ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি সৌদির।
গত সোমবারের হামলার পরেই রাস তানুরার শোধনাগার সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেন কর্তৃপক্ষ। তবে ওই হামলায় শোধনাগারের বিশেষ ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি সৌদি সরকারের। তাদের দাবি, শোধনাগারে হামলা করার আগেই ওই ড্রোনগুলিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। গুলি করে নামানো হয়েছিল ড্রোনগুলিকে। ওই হামলার দু’দিন কাটতে না কাটতেই ফের হামলা চলল রাস তানুরা শোধনাগারে।
আরও পড়ুন:
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বার বার ‘আক্রান্ত’ হচ্ছে সৌদি আরব। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে ইরানের উপর হামলার পরে প্রথম প্রত্যাঘাতই হয়েছিল সৌদিতে। সম্প্রতি এক রিপোর্টে দাবি করা হয়, সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনই নাকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন ইরানে হামলার জন্য। তিনিই আমেরিকাকে বার বার এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন যে সামরিক পদক্ষেপ ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই।
বস্তুত, মঙ্গলবার সৌদির রাজধানী রিয়াধে ড্রোন হামলা হয়েছিল। রিয়াধে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদির মার্কিন দূতাবাস সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সৌদির পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা পরিশোধনাগারটি পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম তৈলশোধনাগারগুলির একটি। প্রতি দিন এখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিশোধিত হয়। সৌদির খনিজ তেল রফতানির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। সেই শোধনাগার লক্ষ্য করেই গত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় বার হামলা চলল।
গত শনিবার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনীর হামলায় মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। তার পর থেকে তেহরানও প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়ার যে সমস্ত দেশে মার্কিন সেনাঘাঁটি রয়েছে, সেখানে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের বোমা পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরিনের মতো দেশে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
মার্কিন আইনসভায় জোর ধাক্কা ট্রাম্পের! ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ক্ষমতা ‘খর্ব’ করতে প্রস্তাব পাশ, দ্রুত বাহিনী সরানোর নির্দেশ
-
মোজতবা জীবিতই, শান্তিচুক্তির আলোচনাতে যোগও দিচ্ছেন! দাবি রুবিয়োর, ইরানের উপর বিধিনিষেধ কি তুলবেন ট্রাম্প?
-
সংঘর্ষবিরতি, ৩০ হাজার কোটির বিনিয়োগ পরিকল্পনা! আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাতের অবসানে খসড়া চুক্তিতে আর কী রয়েছে?
-
‘চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, ঘোষণার অপেক্ষা’! সমঝোতা প্রসঙ্গে দাবি ট্রাম্পের, জানান, খুলবে হরমুজ়! কী মত ইরানের
-
সুযোগ পেলেই চোরাগোপ্তা হামলা! সাবেক পারস্যের হাতে মার খাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে ‘নিরীহ’ আরব রাষ্ট্র