E-Paper

খুনে ধৃত মূল চক্রীদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল কোর্ট চত্বর

পিলখানায় প্রোমোটার মহম্মদ শফিককে খুনের ঘটনার আট দিন পরে বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ধরা পড়ে ওই ঘটনার অন্যতম মূল দুই অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত। শুক্রবার দুপুরে ভবানী ভবন থেকে সিআইডির একটি দল গাড়িতে করে দুই অভিযুক্তকে হাওড়া আদালতের লক-আপে নিয়ে আসে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ০৬:০৯
আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ধৃতদের। বাইরে বিক্ষোভ।

আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ধৃতদের। বাইরে বিক্ষোভ। —নিজস্ব চিত্র।

দিল্লি থেকে ধরা পড়া, হাওড়ার পিলখানা-কাণ্ডের দুই মূল অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হল হাওড়া আদালত চত্বর। বৃহস্পতিবার হাওড়া সিটি পুলিশ ও সিআইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরে ট্রানজ়িট রিমান্ডে শুক্রবার ভোরের বিমানে কলকাতার ভবানী ভবনে আনা হয় দুই ধৃত হারুন খান ও রফাকাত হোসেন ওরফে রোহিতকে। সেখান থেকে দুপুরে তাদের হাওড়া আদালতে পেশ করা হয়। সেই খবর পেয়ে আগে থেকেই আদালত চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন পিলখানার বাসিন্দারা। ধৃতদের নিয়ে পুলিশ আদালতে ঢোকা ও বেরোনোর সময়ে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে পুলিশের গাড়িতে চাপড় মেরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

পিলখানায় প্রোমোটার মহম্মদ শফিককে খুনের ঘটনার আট দিন পরে বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ধরা পড়ে ওই ঘটনার অন্যতম মূল দুই অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত। শুক্রবার দুপুরে ভবানী ভবন থেকে সিআইডির একটি দল গাড়িতে করে দুই অভিযুক্তকে হাওড়া আদালতের লক-আপে নিয়ে আসে। গাড়ি নিয়ে আদালত চত্বরে ঢোকার সময়ে প্রথমে বাধা দেন বিক্ষোভকারীরা। কোনও মতে পুলিশ অভিযুক্তদের আড়াল করে কোর্ট লক-আপে ঢোকায়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রীতিমতো ধস্তাধস্তি হয়।

শফিকের পরিবারের এক মহিলা সদস্য খুশবু আলি বলেন, ‘‘পুলিশ-প্রশাসন ও আদালতের কাছে আমাদের দাবি, হারুন ও রোহিতের যাবজ্জীবন কারাবাস নয়, ফাঁসি চাই। না-হলে ওই দু’জন ছাড়া পেয়ে আবার এলাকায় ঢুকে খুন করবে।’’

হাওড়া আদালতের সরকারি কৌঁসুলি তারাগতি ঘটক জানান, ধৃতদের ৭ দিনের সিআইডি হেফাজত হয়েছে। এ ছাড়াও, এ দিন এই মামলায় আগেই পুলিশি হেফাজতে থাকা মুন্নাকে আদালতে তোলা হলে তার জেল হেফাজত হয়। সরকারি কৌঁসুলি আরও জানান, ধৃতদের দিল্লির জামা মসজিদের কাছে বিলান অতিথিশালা থেকে ধরা হয়। কী ভাবে তারা ওখানে পালিয়েছিল, তা দুই অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত ভাবে জানতে চায় সিআইডি।

এ দিন ধৃতদের আদালত থেকে বার করে সিআইডি গাড়িতে তুলে বেরোনোর সময়েও এক প্রস্ত বিক্ষোভ হয়। অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে গাড়ি ঘিরে কিল, চড়, থাপ্পড় মারতে থাকেন বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কোনও রাজনৈতিক নেতা আড়ালে থেকে ওই দুষ্কৃতীদের সাহায্য করার কারণেই বার বার অপরাধ করেও জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যায় তারা। এ বার তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি না হলে তাঁরাই সেই দায়িত্ব হাতে তুলে নেবেন বলে বিক্ষোভকারীরা হুমকি দেন। অবশেষে হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ কর্তাদের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে দুই মূল অভিযুক্ত-সহ সিআইডির গাড়িটি হাওড়া আদালত চত্বর থেকে বার করে দেয়। তবে, তার পরেও বিক্ষোভকারীরা আদালতের সামনের রাস্তায় বিক্ষোভ দেখান। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতিস্বাভাবিক হয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Howrah Murder Howrah Court

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy