মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই হাওড়া পুরসভা অনুমোদিত পাঁচতলার বেশি উচ্চতার ৩০টি নির্মীয়মাণ বহুতল চিহ্নিত করে কাজ বন্ধ করে দিলেন খাস পুর কর্তৃপক্ষই। এই ৩০টির মধ্যে তিনটি বহুতল বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য তৈরি হচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট নির্মীয়মাণ বহুতলগুলির মাটির গুণগতমান-সহ কাঠামোগত স্থায়িত্ব যাচাই করে দেখার জন্য কেএমডিএ-র ছ’জন বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে একটি কমিটি গড়া হয়েছে। সোমবার হাওড়া পুরসভায় পুর কমিশনারের উপস্থিতিতে সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে এক বৈঠক হয়। নির্মীয়মাণ বহুতলগুলির অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরসভার তরফে গাফিলতি ছিল কিনা, কমিটি তা খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেবে।
প্রসঙ্গত, কলকাতার পরেই হাওড়া শহরে সবচেয়ে বেশি বেআইনি বহুতল তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তারাতলায় গুদাম বিপর্যয়ে ১৬ জনের মৃত্যুর পরে মুখ্যমন্ত্রী সারা রাজ্যে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত পাঁচতলার বেশি উঁচু বহুতলের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তাঁর আরও নির্দেশ, হাওড়ার দিকে গঙ্গাতীর বরাবর যে সব বহুতল তৈরি হচ্ছে, সেগুলির কাজ বন্ধ রেখে মাটির গুণগত মান, পরিকাঠামোগত স্থায়িত্ব-সহ নির্মাণ সামগ্রীর মানও যাচাই করে দেখতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহুতলগুলিতে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা, বজ্র-নিরোধক ব্যবস্থা থাকছে কিনা, তা-ও দেখতে বলা হয়েছে। এর পরেই এ দিন পুর কমিশনার তেজস্বী রানা পুরসভায় ইঞ্জিনিয়ার ও অফিসারদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন।
বৈঠকের পরে এক পুরকর্তা বলেন, ‘‘৩০টি নির্মীয়মাণ বহুতল পরীক্ষা করার জন্য তিন সদস্যের দল গঠন করা হচ্ছে। দলে এক জন ভূতত্ত্ববিদ, এক জন এলবিএস, এক জন কাঠামোগত স্থায়িত্ব পরীক্ষক-সহ বহুতলগুলির মালিককে রাখা হবে। তাঁরা ৩১ জুলাইয়ের আগে বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছে রিপোর্ট জমা দেবেন। সেই রিপোর্ট দেখে রাজ্য পুর দফতর নো-অবজেকশন শংসাপত্র দিলে তবেই ফের নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে।’’
পুরসভা সূত্রের খবর, হাওড়ার ১ থেকে ৭ নম্বর বরো এলাকায় যে ৩০টি নির্মীয়মাণ বহুতলের কাজ বন্ধ করা হয়েছে, সেগুলির মধ্যে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আচার্য তুলসী মার্গ সরণিতে পাঁচটি ৪০তলা বহুতল তৈরির কাজ চলছে। ওই বহুতলগুলির উপরে বিশেষ ভাবে নজর রাখতে বলা হয়েছে। কারণ, যে সংস্থা ওই নির্মাণকাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে এর আগে পুরসভায় গাছ কাটা-সহ একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ বুজিয়ে নির্মাণকাজ করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই কারণেই ওই পাঁচটি বহুতলের মাটি পরীক্ষা-সহ পরিকাঠামোগত স্থায়িত্ব ও নির্মাণ সামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষা আবশ্যিক করা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)