ভোট আসে, ভোট যায়। বাগনানে ফুলচাষ আর বিপণনের সমস্যা মেটে না! ফুলচাষিদের খেদ, ভোটের সময়ে নানা প্রতিশ্রুতিই সার। বলাই বাগ নামে এক ফুলচাষির ক্ষোভ, ‘‘আমাদের চাহিদা যেন শুধু ভোটের সময়ে!’’
বাগনান ২ ব্লকের ওড়ফুলি পঞ্চায়েতের বিরামপুর, ভুলগেড়িয়া, বাঁকুড়দহ, জলপাই, হেলেদি, কাঁটাপুকুর, নাচক, খাজাদাপুর-সহ বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বংশ পরম্পরায় ফুল চাষ করছেন। কেউ নার্সারি বানিয়েছেন। সেখান থেকে কলকাতা-সহ সারা রাজ্যে ফুলগাছের চারা সরবরাহ করা হয়। ফুলচাষিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা চাষ ও ফুল সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে প্রতিশ্রুতি এইবারও দিচ্ছে বিভিন্ন দল। তাতে কাজের কাজ কতটা হবে? প্রশ্ন ওড়ে ফুলের খেতে।
সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নারায়ণ নায়েক জানান, বহু আন্দোলনের পরে বাগনান স্টেশনের অদূরে ফুলের বাজার তৈরি হয়। হিমঘর তৈরিরও পরিকল্পনা ছিল। তিনি বলেন, ‘‘জবরদখল এবং আইনি জটিলতায় অধিগ্রহণ না হওয়ায় বাজারে যাওয়ার প্রস্তাবিত রাস্তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফুলচাষিরা পণ্য মার্কেট থেকে স্টেশনে নিয়ে যেতে পারছেন না।’’ ফুলচাষি অষ্ট বাগ, লক্ষ্মণ বাগেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা আশায় ছিলেন, পরিস্থিতি বদলাবে। তা না হওয়ায় তাঁরা হতাশ।
বাগনানের বিজেপি প্রার্থী প্রেমাংশু রানা বলেন, ‘‘বিক্রি না হলে ফুল নষ্ট হয়ে যায়, চাষিরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হন। ১৫ বছর তৃণমূল ক্ষমতায় থেকেও এই বিষয়ে কোনও গুরুত্ব দেয়নি। আমরা ক্ষমতায় এলে হিমঘর তৈরি করব।’’ কংগ্রেস প্রার্থী হাফিজুর রহমানেরও আশ্বাস, জিতলে ফুলচাষের উপযোগী উন্নত পরিকাঠামো গড়েবেন। তৃণমূল প্রার্থী তথা এলাকার বিদায়ী বিধায়ক অরুণাভ সেনের দাবি, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার ফুলচাষিদের জন্য অনেক কাজ করেছে। আগামী দিনে বাগনানে ফুল মার্কেটে যাতায়াতের রাস্তা-সহ পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’
ফুলচাষিরা চান, যে দলই জিতুক, প্রতিশ্রুতি যেন প্রতিশ্রুতিতেই থেমে না থাকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)