বছর খানেক আগে স্ত্রী ঘর ছেড়েছিলেন যাঁর সঙ্গে, তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করলেন প্রৌঢ়। রবিবার এই ঘটনা ঘটেছে হুগলির ভদ্রেশ্বর থানার সুভাষপল্লি এলাকার উত্তরপাড়ায়। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ মণ্ডল (৪৪)। অভিযুক্তের নাম জগদীশ সর্দার। খুনের পর থেকে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না প্রৌঢ়ের। পুলিশ তাঁর সন্ধান চালাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত বিশ্বজিৎ চন্দননগরের নাড়ুয়া এলাকার গড়েরধারের বাসিন্দা। তিনি পেশায় মোটর ভ্যানচালক। বিশ্বজিৎ বিবাহিত ছিলেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগে জগদীশের স্ত্রী কৌশল্যা বিশ্বজিতের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তী কালে কৌশল্যা জগদীশের বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে আবার তিনি বিশ্বজিতের কাছে চলে যান। এর পর থেকেই জগদীশ এবং বিশ্বজিতের মধ্যে তিক্ততা তৈরি হয়। মাস খানেক আগে স্থানীয় ভাবে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, স্ত্রী চলে যাওয়ায় বদলা নিতে রাগ পুষে রেখেছিলেন জগদীশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন ধরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘুরতে দেখা যাচ্ছিল তাঁকে। রবিবার দুপুর ৩টে নাগাদ বিশ্বজিৎ যখন মোটরভ্যান নিয়ে জগদীশের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই তাঁকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করেন জগদীশ। অস্ত্রের কোপ লাগে বিশ্বজিতের গলায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। আদুরি দাস নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘‘বছর খানেক আগে ওই ছেলেটি (বিশ্বজিৎ মণ্ডল) জগদীশের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তার পর ওর স্ত্রী কৌশল্যা ফিরে আসে। কিন্তু থাকেনি। আজ জগদীশ বাড়িতেই ছিল। যখন খুন হয়েছে তখন আমরা কিছু বুঝতে পারিনি। পরে ওর ছেলে এসে আমাদের জানাল যে, ওর বাবা খুন করেছে।’’
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জগদীশের খোঁজ চালানো হচ্ছে। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি বিদিতরাজ বুন্দেশ বলেন, ‘‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। খুনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক ভাবে অনুমান বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।’’