Advertisement
E-Paper

Kangsabati: গাছ নিয়ে বিপত্তি, থমকে কংসাবতী খাল সংস্কার

খালটি সংস্কারে দিকে তাকিয়ে আছেন গ্রামবাসীরা। মহকুমা কৃষি দফতর জানিয়েছে, গোঘাটের দু’টি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার সেচের ভরসা কংসাবতী খালের জল।

পীযূষ নন্দী

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২২ ০৮:২৩
গাছ না কাটায় কাজ থমকে বেঙ্গাইতে। নিজস্ব চিত্র

গাছ না কাটায় কাজ থমকে বেঙ্গাইতে। নিজস্ব চিত্র

সেচের সুবিধা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজে কংসাবতী খাল আমূল সংস্কারে উদ্যোগী হয়েছে সেচ দফতর। কিন্তু দফতরের কয়েক দফা নোটিস সত্ত্বেও নিজেদের লাগানো গাছ কাটেনি গোঘাট-২ ব্লকের বেঙ্গাই পঞ্চায়েত। ফলে, ওই পঞ্চায়েত এলাকায় খাল সংস্কার থমকে গিয়েছে। ওই পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে সেচ দফতরের কংসাবতী-বিষ্ণুপুর ডিভিশন।

ডিভিশনের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার অঙ্কুর মিশ্রের অভিযোগ, “২ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গাই পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে তাঁদের লাগানো সমস্ত গাছ কেটে নিতে বলা হয়। বিষয়টা পঞ্চায়েত সমিতিকেও একই দিনে জানানো হয়। এখনও কিছু হয়নি। ফলে, বাঁকুড়ার দিকে কাজ হয়ে গেলেও হুগলিতে কাজ এগোচ্ছে না।”

তাঁদের কোনও ত্রুটি নেই বলে দাবি করেছেন জানিয়ে বেঙ্গাই পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জয়দেব কোনার। তিনি বলেন, বন দফতরে গাছ কাটার অনুমতি নিতে গেলে জানানো হয়, পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি স্থায়ী সমিতির অনুমোদন লাগবে। সেই অনুমোদনের জন্য গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চায়েত সমিতিতে জানাই। পঞ্চায়েত সমিতি কেন টালবাহানা করছে জানি না।” পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ স্বপন সাহানা বলেন, “মাসে একবার স্থায়ী সমিতির বৈঠক হয়। গত মাসে বৈঠকের আগে বিষয়টা আমাকে জানানো হয়নি। পঞ্চায়েত কাগজপত্র জমা দিলে খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” বন দফতরের আরামবাগ রেঞ্জ অফিসার শুভঙ্কর সিকদার বলেন, “গাছ কাটার আবেদন খতিয়ে দেখে অনুমোদন দিতে আমাদের তরফে বিলম্ব হয় না।”

সেচ দফতরের কংসাবতী ডিভিশন সূত্রে জানা গেছে, বাঁকুড়ার কোতলপুর থেকে হুগলির গোঘাটের দু’টি ব্লক পর্যন্ত খালটির বিস্তৃতি প্রায় ২৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে পড়ছে বাঁকুড়ার দু’টি পঞ্চায়েত— কোতলপুর এবং লাউগ্রাম। বাকি গোঘাট-২ ব্লকের বেঙ্গাই এবং গোঘাট-১ ব্লকের রঘুবাটী, গোঘাট, কুমুড়শা এবং শ্যাওড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। সব মিলিয়ে মোট ৭টি পঞ্চায়েত এলাকার ২৬ মৌজা দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটিকে ৩০ ফুট চওড়া করা হচ্ছে। দু’দিকের পাড়ও বাঁধানো হচ্ছে। প্রকল্পের খরচ ২
কোটি টাকা।

অঙ্কুরবাবুর দাবি, নোটিস দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে বাঁকুড়ার পঞ্চায়েত দু’টি গাছ কেটে কাজের সুযোগ করে দেয়। কিন্তু বেঙ্গাই পঞ্চায়েতে কাজ থমকে যাওয়ায় গোঘাট-১ ব্লকের পঞ্চায়েতগুলির দিকেও এগোনো যাচ্ছে না।

খালটি সংস্কারে দিকে তাকিয়ে আছেন গ্রামবাসীরা। মহকুমা কৃষি দফতর জানিয়েছে, গোঘাটের দু’টি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার সেচের ভরসা কংসাবতী খালের জল। একইসঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণেও অনেকটা ভরসা ওই খাল। মজে যাওয়া খালটির আমূল সংস্কারের দাবি উঠছিল দীর্ঘদিন ধরেই। আবার ভূগর্ভস্থ জলস্তরের ক্ষেত্রে গোঘাটের দু’টি ব্লকই ‘ব্ল্যাক জ়োন’ হিসেবে চিহ্নিত। নতুন কোনও গভীর নলকূপ বসানোর অনুমোদন দেওয়া হয় না সেখানে। তাই খালটি সংস্কার হলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy