E-Paper

আজ ভোটের লাইনে হুগলি, চর্চায় শিল্পায়ন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মতো সিপিএম নেত্রী শিল্পায়ন প্রশ্নে ঠুকেছেন তৃণমূলকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:২৮
ডিসিআরসি থেকে বুথের পথে ভোটকর্মীরা। মঙ্গলবার চণ্ডীতলায়।

ডিসিআরসি থেকে বুথের পথে ভোটকর্মীরা। মঙ্গলবার চণ্ডীতলায়। ছবি: দীপঙ্কর দে।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পথে-প্রান্তরে ঘুরে প্রচার চালিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। প্রতিপক্ষকে নানা তিরে বিঁধেছে। নদীবেষ্টিত হুগলি জেলা জুড়ে বয়েছে প্রতিশ্রুতির বন্যা। রয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চালু ভাতা আর তার পাল্টা আশ্বাস। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থী বেছে নিতে আজ, বুধবার ভোটের লাইনে দাঁড়াবে হুগলি। যদিও, এসআইআরের গেরোয় অনেকের ভোট দেওয়ার রাস্তা এ বার বন্ধ। ভোটার তালিকায় নাম উঠলেও এসআইআর-হয়রানি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে অনেকের।

হুগলির ১৮টি বিধানসভার মধ্যে ২০২১ সালে তৃণমূল জিতেছিল ১৪টিতে। আরামবাগ মহকুমার চারটি আসনেই খাতা খোলে বিজেপি। এ বার কী হবে? চর্চা সর্বত্র।

হুগলিতে গঙ্গাপারের শহুরে এলাকা ‘শিল্পাঞ্চল’ হিসাবে পরিচিত। তবে, অনেক শিল্পই অবশ্য উঠে গিয়েছে। তালিকায় রয়েছে হিন্দমোটর, ডানলপের মতো কারখানা। একাধিক জুটমিল বন্ধ। কোনওটা চলছে ঢিমেতালে। চটশিল্পের আকাশে আঁধার।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মতো সিপিএম নেত্রী শিল্পায়ন প্রশ্নে ঠুকেছেন তৃণমূলকে। সুর চড়িয়ে বিরোধীদের পাল্টা জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল দাবি করেছে, অনেক কারখানা এসেছে। কর্মসংস্থান হয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, ইদানীং গজিয়ে ওঠা কিছু গুদামকে (ওয়্যারহাউস) কারখানা বলে চালাতে চাইছে তৃণমূল। এই সব গুদাম এবং নানা কারখানায় শ্রমিক শোষণ চলে বলেও তাঁদের অভিযোগ। সিঙ্গুরে কারখানা না হওয়ার প্রসঙ্গও ঘুরে ফিরে এসেছে প্রচার-পর্বে।

পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে দায় ঠেলাঠেলিতে ক্লান্ত শ্রমিক মহল্লা চায়, সরকার যারাই গড়ুক, বিভিন্ন বন্ধ এবং ধুঁকতে থাকা শিল্পের পুনরুজ্জীবন যেন হয়। পয়লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের প্রাক্কালে সর্বাধিক ৮ ঘণ্টা কাজের হক চান গায়েগতরে খাটা শ্রমিক।

শ্রমিক কল্যাণ সমিতি এবং সবুজের অভিযান নামে দু’টি নাগরিক সংগঠনের তরফে ভোটের আগে হুগলি শিল্পাঞ্চলে ঘুরে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। অনেকেই তাঁদের দুরবস্থার কথা জানান। উদ্যোক্তাদের তরফে বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অসংখ্য শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা জোটে না। সরকার যারাই গঠন করুক, তারা যেন শ্রমিকের প্রাপ্য মর্যাদা দেয়। আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামোর উন্নতিতে নতুন বড় শিল্পও জরুরি।’’

হুগলির গ্রামাঞ্চল কৃষিপ্রধান। এ বার আলুর অত্যাধিক ফলনে চাষি সমস্যায় পড়েন। অনেকে অভাবী বিক্রিতে বাধ্য হন। বহু চাষির দাবি, ঋণ নিয়ে চাষ করতে হয়েছে। আলুতে লোকসান হওয়ায় তাঁরা আরও গাড্ডায় পড়েছেন। এ ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন বিরোধীরা। তাতে বিরোধীদের ‘চক্রান্ত’ দেখেছে তৃণমূল। তারা দাবি করেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। চাষির ভালয় নানা ব্যবস্থার কথাও শুনিয়েছে। চাষি চান, ফসলের বিপণন ব্যবস্থার উন্নতি। আরামবাগ মহকুমা চায়, পাকাপাকি ভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবহণ-সহ নানা ক্ষেত্রে আরও নানা দাবি রয়েছে।

দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও খানাকুলে রাজা রামমোহন রায়ের জন্মস্থান রাধানগরে রেল সংযোগ পৌঁছয়নি। তবে, সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। খানাকুলের আশা, প্রথম ভারতীয় রেলযাত্রী ‘ভারত পথিক’রাজা রামমোহনের ভিটে ছুঁয়েচলবে রেলগাড়ি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Hooghly

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy