E-Paper

সাত নম্বর ফর্ম জমা নিয়ে ধুন্ধুমার, হাওড়ায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ

গত সোমবার ছিল সাত নম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন। ওই দিন সকাল থেকেই তাই হাওড়ার জেলাশাসকের কার্যালয় তথা নির্বাচনী নিবন্ধন কার্যালয়ে উত্তেজনা ছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৬

—প্রতীকী চিত্র।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) সাত নম্বর ফর্ম জমা নেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে সোমবার বেশি রাতে উত্তেজনা ছড়াল হাওড়ার নির্বাচনী নিবন্ধন কার্যালয়ে। বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে মারপিটে আহত হলেন কয়েক জন। বিজেপির অভিযোগ, তাদের তরফে সাত নম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার সময়ে হাওড়ার তৃণমূল সভাপতি তথা উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর নেতৃত্বে এক দল তৃণমূল কর্মী-সমর্থক সেখানে হামলা চালিয়ে ফর্ম ছিঁড়ে দেন। অন্য দিকে, তৃণমূলের অভিযোগ, হাওড়ার চারটিবিধানসভা কেন্দ্রের বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে বিজেপির পক্ষ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার নামে আপত্তি তুলে গোছা গোছা ফর্ম জমা দেওয়া হয়েছে ওই রাতে। এমনকি, এ জন্য রাত ১১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী নিবন্ধন কার্যালয় খুলে রাখা হয়। তারই বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। কাউকে মারধর করা হয়নি। গোলমালের খবর পেয়ে হাওড়া থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার ছিল সাত নম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন। ওই দিন সকাল থেকেই তাই হাওড়ার জেলাশাসকের কার্যালয় তথা নির্বাচনী নিবন্ধন কার্যালয়ে উত্তেজনা ছিল। গোলমালের আশঙ্কায় সকাল থেকেই পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল কার্যালয়ের সামনে। এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে সে দিন দুপুরে সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ করে তৃণমূল। বিকেলের দিকে কয়েক জন বিজেপি কর্মীকে নির্বাচনী নিবন্ধন কার্যালয়ের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। বিজেপির দাবি, ওই সময়ে তারা সাত নম্বর ফর্ম জমা দিতে গেলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী নিবন্ধন কার্যালয় থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, সব ফর্মই রাতে জমা নেওয়া হবে। এর পরে রাতে বিজেপির পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলএ ২-রা দল বেঁধে সেই ফর্ম জমা দিতে যান। তখনই তৃণমূলের লোকজন তাঁদের আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ।

বিজেপির জেলা সদরের সাধারণ সম্পাদক ওমপ্রকাশ সিংহ বলেন, ‘‘দুপুর থেকে চেষ্টা করেও জমা করতে না পারায় আমরা রাতে গিয়েছিলাম সাত নম্বর ফর্ম জমা দিতে। তখনই তৃণমূল জেলা সভাপতির নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। আমাদের কর্মীদের মেঝেতে ফেলে পেটানো হয়। আমাদের প্রশ্ন, সাত নম্বর ফর্ম নিয়ে আসার কথা রাজনৈতিক দলগুলির বিএলএ ২-দের। সেটা না করে তৃণমূল বিধায়ক গুন্ডাবাহিনী নিয়ে নির্বাচনী নিবন্ধন অফিসে এসে হামলা চালান কী করে?’’এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল জেলা সভাপতির বক্তব্য, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে এসআইআর-এর মাধ্যমে মানুষকে হয়রান করছে, তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। নইলে রাত ১১টায় নির্বাচনী নিবন্ধন কার্যালয় খোলা রেখে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য সাত নম্বর ফর্ম জমা নেওয়া হচ্ছিল কেন? তাঁর দাবি, ‘‘সোমবার রাতে মালবাহী গাড়িতে ভরে সাত নম্বর ফর্ম আনা হয়েছিল মধ্য হাওড়া, উত্তর হাওড়া, দক্ষিণ হাওড়া ও বালি বিধানসভা কেন্দ্রের ৩৫ হাজার বৈধ ভোটদাতার নাম কাটার উদ্দেশ্যে। তাঁদের ব্যাপারে আপত্তি তুলে ওই ফর্ম জমা করা হয়েছে। দলের কর্মীরা এই খবর জানতে পেরে প্রতিবাদ করেছেন।’’

কিন্তু রাত ১১টা পর্যন্ত নির্বাচনী নিবন্ধন কার্যালয় খোলা ছিল কেন? ওই কার্যালয়ের এক পদস্থ কর্তা মঙ্গলবার বলেন, ‘‘আমাদের কাজ সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ হয়ে গেলে আমরা চলে যাই। কিন্তু গত কাল অনেক কাজ বকেয়া ছিল। তাই অফিস খোলা রেখে সেই কাজ করা হচ্ছিল।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy