Advertisement
E-Paper

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির জেরে হোটেল-রেস্তরাঁয় বন্ধ বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ! হোম সার্ভিস চালাতে ফিরল কয়লার উনুন

চুঁচুড়ার একটি হোটেল থেকে প্রতিদিন দুশো-আড়াইশো বাড়িতে খাবার যায়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক গ্যাস না পাওয়ায়, হোটেল কর্তৃপক্ষ কয়লার উনুনে রান্না করার সিদ্ধান্ত নেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ০০:২৯
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক গ্যাস না পাওয়ায়, হোটেল কর্তৃপক্ষ কয়লার উনুনে রান্না করার সিদ্ধান্ত নেন।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক গ্যাস না পাওয়ায়, হোটেল কর্তৃপক্ষ কয়লার উনুনে রান্না করার সিদ্ধান্ত নেন। —নিজস্ব চিত্র।

উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। এই আবহে তেল এবং গ‍্যাস সরবাহ নিয়ে সর্বত্র সমস্যা দেখা গিয়েছে। সঙ্কট দেখা যাচ্ছে ভারতেও। গৃহস্থালির গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস বুকিং ২৫ দিন পর করে দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক গ্যাস স্কুল, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছাড়া অন্যত্র ব্যবহারে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে, হোটেল, রেস্তরাঁয় মিলছে না বাণিজ্যিক গ্যাস। চিন্তার ভাঁজ হোটেল-রেস্তরাঁর মালিকদের কপালে। এর ফলে কয়লার উনুনে রান্না করার চল ফিরে আসছে। তবে ক্রেতাদের মধ্যে খাবরের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা রয়ে যাচ্ছে।

চুঁচুড়ার একটি হোটেল থেকে প্রতিদিন দুশো-আড়াইশো বাড়িতে খাবার যায়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক গ্যাস না পাওয়ায়, হোটেল কর্তৃপক্ষ কয়লার উনুনে রান্না করার সিদ্ধান্ত নেন।

ফলে রোজের খাবারের তালিকায় কাটছাট করতে হচ্ছে। সময়ে খাবার সরবরাহ করা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যাঁরা খাবার কিনতে আসছেন, তাঁদের আশঙ্কা, এর ফলে খাবারের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। যাঁদের বাড়িতে বয়স্ক মানুষ থাকেন এবং রান্না করার কেউ নেই, তাঁদের কী ভাবে চলবে তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।

চুঁচুড়ার একটি হোটেলের মালিক গোবিন্দ বারিক বলেন, “প্রায় চার দিন হয়ে গেল গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আমার হোটেলের পাশাপাশি অনেক মানুষ হোম সার্ভিসের খাবার নেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই কাজ চলে। আবার রাতেও কিছু খাবার দিতে হয়। গ্যাস না পাওয়ায় রান্নার অসুবিধা হচ্ছে। মেনু তে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কয়লা ব্যবহার করতে হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি রান্নার জন্য গ্যাস পেয়ে গেলে ভাল হয়। কয়লা সব সময় পাওয়া যায় না। ডিলাররা বলছে, বাণিজ্যিক গ্যাস নেই। হাসপাতাল স্কুলের পাশাপাশি বয়স্ক মানুষ যারা হোম সার্ভিস খাবার খান তাঁদের জন্যও জরুরি।”

খাদিনা মোড়ের একটি রেস্তরাঁর মালিক সাত্যকি দাস বলেন, “আমরা বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করি। অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়। এখন এই ডামাডোল শুরু হওয়ায় সেই গ্যাসও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। রেস্তোরাঁ চালানোই দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। রেস্তোরাঁর রান্না কয়লা বা গুলের উনুনে করা যায় না তাই গ্যাসের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে আমাদের।”

হোটেল থেকে খাবার কিনতে আসা সুমনা সাহা বলেন, “সাধারণ মানুষের খুবই অসুবিধা হবে। এমনিতেই গৃহস্থালির গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। তার উপর নতুন বুকিং ২৫ দিনের আগে করা যাবে না নির্দেশ জারি হয়েছে। এখন হোটেল রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হলে, সাধারণ মানুষের খুবই অসুবিধা হবে। যে সমস্ত বাড়িতে হোম সার্ভিসের খাবার যায়, তাদের বিষয়টাও বিবেচনা করা দরকার সরকারের।”

অন্য দিকে, গ্যাসের আকাল হতে পারে এই আতঙ্কে কেওয়াইসি আপডেট করার দীর্ঘ লাইন পড়ছে গ্যাসের দোকানের সামনে। কেওয়াইসি আপডেট করা না থাকলে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাবে না, এটা জানার পরই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

Commercial Gas Chinsurah
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy