সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আগেই শ্রীরামপুর পুরসভা দখল করেছে তৃণমূল। ইভিএম খারাপ হওয়ায় ভোট গণনার দিন (গত বুধবার) ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর বুথের ফলাফল বের করা যায়নি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশমতো শুক্রবার ফের ওই বুথে ভোট হল। জিতলেন তৃণমূল প্রার্থী সুপ্রীতি মুখোপাধ্যায়। আগে অন্যান্য বুথের ভোটের নিরিখে তিনিই এগিয়ে ছিলেন। এই নিয়ে ২৯ ওয়ার্ডের পুরসভায় তৃণমূল জিতল ২৫টিতে।
ওই ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থী সরস্বতী লাহাকে ১৪৭ ভোটে হারিয়েছেন সুপ্রীতি। এই নিয়ে তিনি টানা চতুর্থ বার কাউন্সিলর হলেন। শেষ দু’বার পুর-পারিষদ ছিলেন। গত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষে পুরপ্রশাসকমণ্ডলীর সদস্যও হয়েছিলেন।
সরস্বতী এলাকায় তৃণমূল নেত্রী বলেই পরিচিত ছিলেন। দল টিকিট না-দেওয়ায় নির্দল হয়ে দাঁড়ান। দল তাঁকে বহিষ্কার করে। মহিলা সংরক্ষিত এই ওয়ার্ডের অন্য দুই প্রার্থী ছিলেন সিপিএমের ঝিলিক দে দাস এবং বিজেপির চম্পা দাস।
সপ্তাহের কাজের দিনেও চাতরা নন্দলাল ইনস্টিটিউশনের ওই বুথে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের উৎসাহ ছিল দেখার মতো। সকাল থেকেই ভোটারদের লাইন পড়ে। বুথের ৮৭০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৭৪৬ জন। আগের দিন ছ'টি বুথ মিলিয়ে সুপ্রীতি এগিয়েছিলে ২৭৩ ভোটে। এ দিন অবশ্য সরস্বতীর থেকে তিনি ১২৬ ভোটে পিছিয়ে পড়েন (সুপ্রীতি পান ৩০৩ ভোট, সরস্বতীর ঝুলিতে আসে ৪২৯ ভোট)। তবে, সব মিলিয়ে ১৪৭ ভোটে জিতে শেষ হাসি সুপ্রীতিই হাসেন।
ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে বৃহস্পতিবার দিনভর পুলিশ টহল দেয়। বুথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কড়া ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় একশো পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (২) এবং শ্রীরামপুরের আইসি দিব্যেন্দু দাস আগাগোড়া এলাকায় ছিলেন। ডিসি (শ্রীরামপুর) অরবিন্দ আনন্দ এসেও পরিস্থিতি দেখে যান। পর্যবেক্ষক নিজেও আসেন। বুথের দিকে ঢোকার বিভিন্ন রাস্তা ব্যারিকেড করে আটকে দেওয়া হয়।
২ নম্বর ওয়ার্ডটি চাঁপদানি বিধানসভার মধ্যে। ভোট শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই এলাকার তৃণমূল বিধায়ক অরিন্দম গুঁইন স্থানীয় কালীবাবুর ঘাটের কাছে গঙ্গার ধারে এসে বসেন। সরস্বতীর অভিযোগ, বিধায়ক সেখানে বসে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। পুলিশের বক্তব্য, যেখানে বিধায়ক বসেছিলেন, জায়গাটি ভোটকেন্দ্রের ২০০ মিটারের বাইরে। ওই জায়গায় ভিড়ও হয়নি। ফলে, ওই চত্বর থেকে কাউকে সরতে বলার ব্যাপার নেই। অরিন্দমেরও দাবি, ‘‘বুথ থেকে অনেক দূরে বসে ছিলাম। ভোটারদের প্রভাবিত করার প্রশ্নই নেই।’’